সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বানে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এবার বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটার অ্যাঙ্কোরেজ) জাহাজের পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের চার দফা দাবি: আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের প্রধান চারটি দাবি হলো: ১. এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা। ২. বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে পদ থেকে প্রত্যাহার করা। ৩. আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে যেসব শ্রমিক-কর্মচারীকে বদলি বা বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহাল করা। ৪. আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা বা মামলা না নেওয়া।
অচলাবস্থার প্রভাব: ধর্মঘটের কারণে বন্দরের জেটিতে থাকা জাহাজগুলো থেকে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলো বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারছে না, ফলে ইয়ার্ডগুলোতে কনটেইনার জট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় সেখানে অর্ধশতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ শ্রমিক নেতাদের হয়রানি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ: দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত এই বন্দর অচল হয়ে পড়ায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের অস্থিরতায় এরই মধ্যে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজানের পণ্য সরবরাহ এবং তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আদেশ বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বন্দর কর্তৃপক্ষ আজ বেলা ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি এবং বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি মানা না পর্যন্ত কোনোভাবেই কাজে ফিরবেন না তারা।
রিপোর্টারের নাম 























