ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গ্রন্থাগার ও জীবনব্যাপী শিক্ষার গুরুত্ব: পেশাজীবীদের মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ, নৈতিক শুদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি হলো জীবনব্যাপী শিক্ষা। সমাজ কতটা প্রগতিশীল ও সভ্য, তার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো সে দেশের গ্রন্থাগার ব্যবস্থা এবং জনগণের পাঠাভ্যাসের সংস্কৃতি। শক্তিশালী ও আধুনিক গ্রন্থাগার কেবল বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, বরং এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের এক সুদৃঢ় ভিত্তি। তাই গ্রন্থাগারের উন্নয়ন কেবল ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, এটি মূলত একটি উন্নত জাতি গঠনের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, অসংখ্য গ্রন্থাগার থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। এর অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগার কর্মীর সংকট এবং পেশাজীবী হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদার অভাব। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন লাইলাইব্রেরিয়ানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে তারা যথাযথ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। একজন লাইব্রেরিয়ান কেবল বইয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী নন; তিনি একাধারে তথ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা সহায়ক এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপক। উন্নত বিশ্বে লাইব্রেরিয়ানদের প্রফেসরের সমমর্যাদা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও যদি তাদের যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যায়, তবে গবেষণার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।

সমসাময়িক সমাজে সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য যেন কেবল সনদ অর্জন বা সার্টিফিকেটের পেছনে ছোটা। অথচ প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে চিন্তাশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলে। ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা’—এই মহৎ দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গ্রন্থাগারকে শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে কাঙ্ক্ষিত স্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এর পেছনে দুর্বল গবেষণা কাঠামো, গ্রন্থাগারের আধুনিকায়নের অভাব এবং গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের অবমূল্যায়নকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে গ্রন্থাগার ও এর কর্মীদের মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’। এই উপলক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের প্রতি গ্রন্থাগারের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শক্তিশালী গ্রন্থাগার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক বিনিয়োগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমেই গ্রন্থাগারগুলো হয়ে উঠতে পারে নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখানো আলোকবর্তিকা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল রাবি: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রাকসুর

সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গ্রন্থাগার ও জীবনব্যাপী শিক্ষার গুরুত্ব: পেশাজীবীদের মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ, নৈতিক শুদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি হলো জীবনব্যাপী শিক্ষা। সমাজ কতটা প্রগতিশীল ও সভ্য, তার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো সে দেশের গ্রন্থাগার ব্যবস্থা এবং জনগণের পাঠাভ্যাসের সংস্কৃতি। শক্তিশালী ও আধুনিক গ্রন্থাগার কেবল বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, বরং এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের এক সুদৃঢ় ভিত্তি। তাই গ্রন্থাগারের উন্নয়ন কেবল ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, এটি মূলত একটি উন্নত জাতি গঠনের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, অসংখ্য গ্রন্থাগার থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। এর অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগার কর্মীর সংকট এবং পেশাজীবী হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদার অভাব। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন লাইলাইব্রেরিয়ানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে তারা যথাযথ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। একজন লাইব্রেরিয়ান কেবল বইয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী নন; তিনি একাধারে তথ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা সহায়ক এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপক। উন্নত বিশ্বে লাইব্রেরিয়ানদের প্রফেসরের সমমর্যাদা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও যদি তাদের যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যায়, তবে গবেষণার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।

সমসাময়িক সমাজে সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য যেন কেবল সনদ অর্জন বা সার্টিফিকেটের পেছনে ছোটা। অথচ প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে চিন্তাশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলে। ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা’—এই মহৎ দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গ্রন্থাগারকে শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে কাঙ্ক্ষিত স্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এর পেছনে দুর্বল গবেষণা কাঠামো, গ্রন্থাগারের আধুনিকায়নের অভাব এবং গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের অবমূল্যায়নকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে গ্রন্থাগার ও এর কর্মীদের মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’। এই উপলক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের প্রতি গ্রন্থাগারের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শক্তিশালী গ্রন্থাগার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক বিনিয়োগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমেই গ্রন্থাগারগুলো হয়ে উঠতে পারে নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখানো আলোকবর্তিকা।