দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে জনসমাগমের সহিংসতা বা ‘মব ভায়োলেন্স’ নিয়ে কোনো প্রকার ভীতি কাজ করছে না। বুধবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি প্রয়োজন হয়) বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা এবং তাদের মনোবল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এখানে যারা আছেন, তাদের কি ভীত মনে হচ্ছে? জনসমাগমের সহিংসতা বলে কিছু নেই। পুলিশের মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করছে না।” তিনি পাশে দাঁড়ানো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত করে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। তিনি বলেন, “প্রায় সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।”
অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বারবার বলছি, অবৈধ অস্ত্র নিয়মিত উদ্ধার করা হচ্ছে। এ কারণে সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।”
নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা সম্পর্কে তিনি জানান, সারাদেশে সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার, কোস্ট গার্ডের চার হাজার, পুলিশের দেড় লাখ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নয় হাজার এবং আনসারের পাঁচ লক্ষাধিক সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচনে সহিংসতার কোনো সম্ভাবনাই নেই। নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ হবে।”
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ, ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমানসহ রাজশাহী বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























