ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: তৃতীয় দিনেও থমকে আছে কার্যক্রম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর কোম্পানি নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং আন্দোলনকারী ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি আদেশ বাতিলের দাবিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধের পাশাপাশি আজ সকাল থেকে প্রশাসনিক কাজও থমকে গেছে।

গত দুই দিন বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কাজ চললেও, সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক কর্মচারীরা সেখানে প্রবেশ করে সেই কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বন্দর কার্যত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে, বন্দর থেকে খালাস হওয়া কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন এবং জাহাজে তোলার জন্য কনটেইনার পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেসরকারি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী যান চলাচলও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কপের উদ্যোগে আগ্রাবাদ মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বন্দর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। বন্দর এলাকায় পূর্ব থেকেই মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়। পুলিশের বাধায় সেখানেই বক্তব্য রাখেন আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা। তারা বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পাশাপাশি আন্দোলনে থাকা ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি আদেশ বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায়, ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিকে ১২ ঘণ্টায় উন্নীত করা এবং আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দেশের অর্থনীতি বা জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এই কারণেই বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান তিন দিন ধরে অচল হয়ে থাকলেও সরকার সংকট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। শেখ নুরুল্লাহ বাহার আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং আন্দোলনের কারণে বদলি হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পাল্টা হামলা: ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামো ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত

বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: তৃতীয় দিনেও থমকে আছে কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর কোম্পানি নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং আন্দোলনকারী ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি আদেশ বাতিলের দাবিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধের পাশাপাশি আজ সকাল থেকে প্রশাসনিক কাজও থমকে গেছে।

গত দুই দিন বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কাজ চললেও, সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক কর্মচারীরা সেখানে প্রবেশ করে সেই কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বন্দর কার্যত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে, বন্দর থেকে খালাস হওয়া কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন এবং জাহাজে তোলার জন্য কনটেইনার পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেসরকারি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী যান চলাচলও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কপের উদ্যোগে আগ্রাবাদ মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বন্দর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। বন্দর এলাকায় পূর্ব থেকেই মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়। পুলিশের বাধায় সেখানেই বক্তব্য রাখেন আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা। তারা বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পাশাপাশি আন্দোলনে থাকা ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি আদেশ বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায়, ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিকে ১২ ঘণ্টায় উন্নীত করা এবং আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দেশের অর্থনীতি বা জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এই কারণেই বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান তিন দিন ধরে অচল হয়ে থাকলেও সরকার সংকট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। শেখ নুরুল্লাহ বাহার আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং আন্দোলনের কারণে বদলি হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ফোন রিসিভ করেননি।