নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে এক অভাবনীয় প্রজন্মের পরিবর্তন দেখা গেছে। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে তরুণদের বিপুল উপস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নতুন পার্লামেন্টে ৪০ বছরের কম বয়সী আইনপ্রণেতাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত ১৫৯টি নির্বাচনি এলাকার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৩৮ শতাংশ বা ৫৯ জন তরুণ প্রার্থী ফেডারেল আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ এতদিন ধরে দেশটির রাজনীতি প্রবীণ রাজনীতিবিদদের দখলে ছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালের সংসদে যেখানে সর্বাধিক সদস্য ছিলেন ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী এবং ৪০ বছরের কম বয়সী আইনপ্রণেতার হার ছিল মাত্র ১১ শতাংশ, সেখানে এবার এই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।
এই তরুণ বিপ্লবের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। দলটির নির্বাচিত সদস্যদের অধিকাংশই ৪০ বছরের নিচে। ৫৯ জন তরুণ আইনপ্রণেতার মধ্যে ৫১ জনই আরএসপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি থেকেও তরুণ প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান নীতি নির্ধারণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, বিশেষ করে শিক্ষা, আধুনিক শাসনব্যবস্থা, জলবায়ু নীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে। তবে, তারা সতর্ক করেছেন যে প্রশাসনিক কাঠামো এখনো পুরোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধারার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা নতুন নেতৃত্বের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 



















