ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কুরআন হাতে প্রতিজ্ঞা করে যোগ দিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীতে, দুবাই থেকে নিয়ন্ত্রণ

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুলিশ বড় সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, নতুন সদস্যদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে কুরআন হাতে নিয়ে আনুগত্যের শপথ নিতে হতো। দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে সদস্যপদ নিশ্চিত করা হতো।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির এবং সায়েম। এদের মধ্যে রিমন ২০০০ সালের চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডার মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

পুলিশ জানায়, রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সদস্যরা কুরআন হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা করছেন। এক যুবককে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘কুরআনের ওপর হাত রেখে বললাম, আমার জীবন আজ থেকে সাজ্জাদ ভাইয়ের হাতে… মরলেও সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ এই ভিডিওগুলো দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদের কাছে পাঠিয়ে সদস্যপদ ‘অনুমোদন’ নিতেন তারা। তবে নিরাপত্তার কারণে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির মুখ ব্লার করা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে মুখোশধারী চার ব্যক্তি গুলিবর্ষণ করে। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না পাওয়ায় জানুয়ারিতেও তার বাড়িতে গুলি করা হয়েছিল এবং ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত হয়েছিল পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান। পুলিশ আরও জানিয়েছে, রিমনের তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। মনিরের দেখানো মতে ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ মিমি পিস্তল এবং সায়েমের তথ্য অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এই অস্ত্রগুলোই চন্দনপুরায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানের নতুন সমাবেশ: প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার

কুরআন হাতে প্রতিজ্ঞা করে যোগ দিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীতে, দুবাই থেকে নিয়ন্ত্রণ

আপডেট সময় : ০২:১৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুলিশ বড় সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, নতুন সদস্যদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে কুরআন হাতে নিয়ে আনুগত্যের শপথ নিতে হতো। দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে সদস্যপদ নিশ্চিত করা হতো।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির এবং সায়েম। এদের মধ্যে রিমন ২০০০ সালের চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডার মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

পুলিশ জানায়, রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সদস্যরা কুরআন হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা করছেন। এক যুবককে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘কুরআনের ওপর হাত রেখে বললাম, আমার জীবন আজ থেকে সাজ্জাদ ভাইয়ের হাতে… মরলেও সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ এই ভিডিওগুলো দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদের কাছে পাঠিয়ে সদস্যপদ ‘অনুমোদন’ নিতেন তারা। তবে নিরাপত্তার কারণে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির মুখ ব্লার করা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে মুখোশধারী চার ব্যক্তি গুলিবর্ষণ করে। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না পাওয়ায় জানুয়ারিতেও তার বাড়িতে গুলি করা হয়েছিল এবং ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত হয়েছিল পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান। পুলিশ আরও জানিয়েছে, রিমনের তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। মনিরের দেখানো মতে ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ মিমি পিস্তল এবং সায়েমের তথ্য অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এই অস্ত্রগুলোই চন্দনপুরায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।