ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ধানের শীষে ভোট না দিলে ‘রেহাই নেই’ – বিএনপি নেতার হুমকির ভিডিও ভাইরাল, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এক বিএনপি নেতার দেওয়া হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এক জনসভায় বক্তব্য রাখছেন। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, গত শুক্রবার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদীপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজাম উদ্দিন তাঁর ভাষণে বলেন যে, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুইদিন ধরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিজাম উদ্দিনের বক্তব্যের সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাহের, মোগরাাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি থেকে পদত্যাগকারী পৌরসভার আহ্বায়ক ওমর ফারুক টিটু এবং তাঁর ভাই ওসমান গণি রিতু প্রমুখ।

ভোটারদের অভিযোগ, এই ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে এবং স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস জানান, একজন প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি নেতার এই ধরনের হুমকি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন অবশ্য দাবি করেছেন যে, তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একটি উঠান বৈঠক করছিলেন। তাঁর কিছু আত্মীয়-স্বজন প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও গোপনে অন্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের শাসিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসিফ আল জিনাত জানিয়েছেন যে, ভিডিওর বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পাল্টা হামলা: ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামো ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত

ধানের শীষে ভোট না দিলে ‘রেহাই নেই’ – বিএনপি নেতার হুমকির ভিডিও ভাইরাল, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১০:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এক বিএনপি নেতার দেওয়া হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এক জনসভায় বক্তব্য রাখছেন। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, গত শুক্রবার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদীপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজাম উদ্দিন তাঁর ভাষণে বলেন যে, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুইদিন ধরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিজাম উদ্দিনের বক্তব্যের সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাহের, মোগরাাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি থেকে পদত্যাগকারী পৌরসভার আহ্বায়ক ওমর ফারুক টিটু এবং তাঁর ভাই ওসমান গণি রিতু প্রমুখ।

ভোটারদের অভিযোগ, এই ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে এবং স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস জানান, একজন প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি নেতার এই ধরনের হুমকি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন অবশ্য দাবি করেছেন যে, তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একটি উঠান বৈঠক করছিলেন। তাঁর কিছু আত্মীয়-স্বজন প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও গোপনে অন্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের শাসিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসিফ আল জিনাত জানিয়েছেন যে, ভিডিওর বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।