আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি দাবি করেছেন, সারাদেশে বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
রোববার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. তাহের তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর সাথে এবারের নির্বাচনের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবারের নির্বাচন নিছক কোনো ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কার ও পদ্ধতিগত পরিবর্তনের লড়াই।
দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গত ৫৪ বছরে বহুবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু শাসনের ধরনে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। অতীতে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, তারা দুর্নীতির বলয় থেকে বের হতে পারেনি। যার ফলে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক তিলক পরেছে।” তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতির এই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে ডা. তাহের বলেন, এই জোটে বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লবের লড়াকু সৈনিক এবং সমমনা ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এই জোট গঠিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানুষ এবার সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেবে। জোট বিজয়ী হলে দেশ থেকে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটবে এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
শুভপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জামায়াত নেতা শেখ আহম্মেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, এমদাদুল হক শাহী, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, খিরণশাল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুল হক এবং যুব নেতা আরিফুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























