ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণবিধি নিয়ে ইসিতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের পরিবেশ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি, রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তারা এসব অভিযোগ উত্থাপন করে।

বিএনপির অভিযোগ: শান্তি কমিটি, ভোটার স্থানান্তর ও বিএনসিসি নিয়ে উদ্বেগ
গতকাল সকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান জানান, নির্বাচনে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে, যা তাদের কাছে একটি ‘অপ্রিয় শব্দ’। এ বিষয়ে ইসি জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের খবর নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের প্রচারে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং গত এক-দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিশেষত, কিছু হোল্ডিং নম্বরে যেখানে ৪-৫ জনের বেশি বসবাস করেন না, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। ইসি অবশ্য জানিয়েছে, এমন স্থানান্তর খুব বেশি নয়, তবে তারা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা ইয়াং ও ছাত্র, তাই তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা ঠিক হবে না। ইসি তাদের যুক্তির যৌক্তিকতা স্বীকার করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা, বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে আঘাত করার মতো বক্তৃতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিচারিক অনুসন্ধান কমিটিকে তাদের কর্মকাণ্ড আরও দৃশ্যমান করার দাবি জানায় দলটি। পাশাপাশি, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ছাড়ার বিষয়েও ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে বিএনপি জানায়, ৮১টি দেশীয় সংস্থার ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান তেমন পরিচিত নয়। ইসিকে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

জামায়াতের অভিযোগ: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা
অন্যদিকে, বিএনপির বৈঠকের পর গতকাল বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। জামায়াত অভিযোগ করে, মাঠ পর্যায়ে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড, যেমন ঢাকায় হাদি এবং শেরপুরে রেজাউল হত্যাকাণ্ড, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় বাধা বলে মনে করে দলটি। তাই নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির ‘শান্তি কমিটি’ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব আজগুবি অভিযোগ কোনো সুস্থ মাথা থেকে আসতে পারে না। একটি দল অস্থির হয়ে জনগণের বিপুল সমর্থন দেখে ভীত হয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলছে।’ তিনি আরও বলেন, একটি দল সব সময় ‘না’ এর পক্ষে থাকে, যা জনগণই বিবেচনা করবে।

জামায়াতে ইসলামীর নারী উইংয়ের প্রধান হাবিবা চৌধুরী অভিযোগ করেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী ভোটার হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনে নারীদের ভয় দেখিয়ে ভোট থেকে দূরে রাখার জন্য একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট নারী কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৫টি ঘটনা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে।

পর্যবেক্ষকদের ভাতা ও নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে, মাঠপর্যায়ে যাতায়াত-খাবার ভাতা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে গতকাল মানববন্ধন করেছে ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)। মানববন্ধন শেষে সংগঠনের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। ইওএস-এর নেতারা জানান, এবারের নির্বাচনে কমিশন সারাদেশে প্রায় ৫৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে তাদের অধীনেই রয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার পর্যবেক্ষক। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বড় বাজেট থাকলেও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা না থাকাকে তারা ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন: মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষকদের জন্য ন্যূনতম যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার ব্যয় নির্বাহে জরুরি তহবিল বরাদ্দ; দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের বাধা বা আক্রমণকে বেআইনি ঘোষণা করে দ্রুত পরিপত্র জারি; এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসনে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি ও অফলাইনে পরিচয়পত্র ও স্টিকার সংগ্রহের ব্যবস্থা।

পৌঁছেছে দেড় লক্ষাধিক পোস্টাল ব্যালট
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদান সম্পন্ন করে প্রবাসীরা ব্যালট বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেছেন। গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা পর্যন্ত ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৮টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই)’ প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন এবং ৪ লাখ ১৫ হাজার ৭৬২টি পূরণকৃত ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। দেশের অভ্যন্তর থেকে নিবন্ধন করা ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪২ জন ভোটারের মধ্যে আইনি হেফাজতে থাকা ৬ হাজার ২৪০ জন ভোটারও রয়েছেন। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে এবং গতকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণবিধি নিয়ে ইসিতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের পরিবেশ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি, রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তারা এসব অভিযোগ উত্থাপন করে।

বিএনপির অভিযোগ: শান্তি কমিটি, ভোটার স্থানান্তর ও বিএনসিসি নিয়ে উদ্বেগ
গতকাল সকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান জানান, নির্বাচনে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে, যা তাদের কাছে একটি ‘অপ্রিয় শব্দ’। এ বিষয়ে ইসি জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের খবর নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের প্রচারে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং গত এক-দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিশেষত, কিছু হোল্ডিং নম্বরে যেখানে ৪-৫ জনের বেশি বসবাস করেন না, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। ইসি অবশ্য জানিয়েছে, এমন স্থানান্তর খুব বেশি নয়, তবে তারা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা ইয়াং ও ছাত্র, তাই তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা ঠিক হবে না। ইসি তাদের যুক্তির যৌক্তিকতা স্বীকার করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা, বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে আঘাত করার মতো বক্তৃতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিচারিক অনুসন্ধান কমিটিকে তাদের কর্মকাণ্ড আরও দৃশ্যমান করার দাবি জানায় দলটি। পাশাপাশি, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ছাড়ার বিষয়েও ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে বিএনপি জানায়, ৮১টি দেশীয় সংস্থার ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান তেমন পরিচিত নয়। ইসিকে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

জামায়াতের অভিযোগ: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা
অন্যদিকে, বিএনপির বৈঠকের পর গতকাল বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। জামায়াত অভিযোগ করে, মাঠ পর্যায়ে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড, যেমন ঢাকায় হাদি এবং শেরপুরে রেজাউল হত্যাকাণ্ড, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় বাধা বলে মনে করে দলটি। তাই নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির ‘শান্তি কমিটি’ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব আজগুবি অভিযোগ কোনো সুস্থ মাথা থেকে আসতে পারে না। একটি দল অস্থির হয়ে জনগণের বিপুল সমর্থন দেখে ভীত হয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলছে।’ তিনি আরও বলেন, একটি দল সব সময় ‘না’ এর পক্ষে থাকে, যা জনগণই বিবেচনা করবে।

জামায়াতে ইসলামীর নারী উইংয়ের প্রধান হাবিবা চৌধুরী অভিযোগ করেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী ভোটার হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনে নারীদের ভয় দেখিয়ে ভোট থেকে দূরে রাখার জন্য একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট নারী কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৫টি ঘটনা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে।

পর্যবেক্ষকদের ভাতা ও নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে, মাঠপর্যায়ে যাতায়াত-খাবার ভাতা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে গতকাল মানববন্ধন করেছে ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)। মানববন্ধন শেষে সংগঠনের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। ইওএস-এর নেতারা জানান, এবারের নির্বাচনে কমিশন সারাদেশে প্রায় ৫৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে তাদের অধীনেই রয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার পর্যবেক্ষক। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বড় বাজেট থাকলেও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা না থাকাকে তারা ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন: মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষকদের জন্য ন্যূনতম যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার ব্যয় নির্বাহে জরুরি তহবিল বরাদ্দ; দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের বাধা বা আক্রমণকে বেআইনি ঘোষণা করে দ্রুত পরিপত্র জারি; এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসনে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি ও অফলাইনে পরিচয়পত্র ও স্টিকার সংগ্রহের ব্যবস্থা।

পৌঁছেছে দেড় লক্ষাধিক পোস্টাল ব্যালট
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদান সম্পন্ন করে প্রবাসীরা ব্যালট বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেছেন। গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা পর্যন্ত ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৮টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই)’ প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন এবং ৪ লাখ ১৫ হাজার ৭৬২টি পূরণকৃত ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। দেশের অভ্যন্তর থেকে নিবন্ধন করা ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪২ জন ভোটারের মধ্যে আইনি হেফাজতে থাকা ৬ হাজার ২৪০ জন ভোটারও রয়েছেন। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে এবং গতকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে।