আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবানের ৩০০ নম্বর আসনে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গত তিন দিন ধরে তিনি লামা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারণা, পথসভা এবং গণসংযোগ চালিয়েছেন।
প্রচারণার অংশ হিসেবে সাচিং প্রু জেরী শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজার, বড়পাড়া, বনপুর, সাপেরঘাটা ও হায়দারনাশী বাজারসহ ফাইতং ইউনিয়নের বাজারপাড়া এলাকায় ধারাবাহিক পথসভা করেন। এর আগে গত কয়েক দিনে তিনি লামা পৌর এলাকা ছাড়াও সরই, গজালিয়া, রূপসীপাড়া, লামা সদর, আজিজনগর ও ফাইতং ইউনিয়নের জনবহুল এলাকাগুলোতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান।
পথসভাগুলোতে ভোটারদের উদ্দেশে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ধানের শীষ বর্তমানে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও গভীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুর্গম পাহাড়ি জনপদ উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
গণসংযোগকালে প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মাবুদ, থোয়াইনু অং চৌধুরী, আলীকদম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, থানচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো এবং জেলা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান ইয়াহইয়াসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী প্রচারণায় অংশ নেন।
নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের মোট ৪২টি কেন্দ্রে ৮৮ হাজার ৮২৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এখন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং প্রার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মঈন উদ্দিন জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রিপোর্টারের নাম 




















