চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চপা)। বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কর্তৃপক্ষের অভিযোগ: বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় অফিস চলাকালীন সময়ে এনসিটি প্রজেক্ট পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। হাইকোর্টের এই রায়কে কেন্দ্র করে বন্দরের কিছু কর্মচারী বন্দর ভবন, ফয়ার এবং সংলগ্ন এলাকায় মিছিল বের করেন। তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করার পাশাপাশি দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্দোলন, মিটিং-মিছিল এবং গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান ‘সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ’ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি: পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে, আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মচারী হিসেবে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা এবং আদালতের রায়ের অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাইকোর্টের রায় ও শ্রমিকদের অবস্থান: উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এর ফলে দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) মতো বিদেশি অপারেটরদের হাতে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার বন্দরে ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করছে, বন্দরের নিজস্ব সক্ষমতা থাকার পরও কেন এটি বিদেশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
বন্দরে যেকোনো ধরনের অরাজকতা মোকাবিলায় এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 


















