দীর্ঘ ২০ বছরের ধারাবাহিক আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংসদীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৭ সাল থেকে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘জি নিউজ’ তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ব্যবসার একটি বড় অংশ ভারত দখল করে নেবে বলে দিল্লি আশা করছে। ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। এই সুবিধার ওপর ভর করেই বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ডেনিম, ট্রাউজার এবং টি-শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশ এমনকি চীনকেও পেছনে ফেলেছে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থান: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই এখন বাংলাদেশের অবস্থান। এরপরের তালিকায় রয়েছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি গেছে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলার (১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার)।
ভারতের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য: চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ভারত খুব দ্রুতই ইউরোপে টেক্সটাইল রপ্তানি বর্তমানের ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের সব সময় প্রশ্ন করা হতো বাংলাদেশ কীভাবে এত বেশি রপ্তানি করে। তারা মূলত শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করেছিল। এখন ভারতও সেই পথে এগোবে।”
প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চ্যালেঞ্জ: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইইউর বাজারে ভারতীয় পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং উন্নতমানের পণ্যের কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের চাপে পড়বে। বিশেষ করে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে, ঠিক তখনই ভারতের এই চুক্তি কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এক দ্বিমুখী সংকট তৈরি করতে পারে। ভারতের নিজস্ব তুলার সরবরাহ এবং বড় উৎপাদন সক্ষমতা বাংলাদেশকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























