চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী দুই দিন ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন। তাদের এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
আগামী শনিবার (তথ্যসূত্র অনুযায়ী) বন্দরটির সকল ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরদিন রবিবারও সকল প্রশাসনিক কাজ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
এর আগে, এনসিটি টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়ে উচ্চ আদালত রায় দেয়। এরপর শ্রমিক সংগঠনের বন্দর শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে আগ্রাবাদের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, টার্মিনালটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়া হলে দেশের নিরাপত্তা এবং বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি শক্তির হাতে চলে যাবে। এতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, বন্দর থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যাবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের শামিল। এই পরিস্থিতিতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার তাদের দাবি মেনে না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ শ্রমিক সংগঠনের কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সরকারের মনোযোগ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু এই সময়ে বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সকলের কাছেই সন্দেহের উদ্রেক করছে। তারাও সরকারকে দ্রুত এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায়, শ্রমিক-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রিপোর্টারের নাম 

























