ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে মশগুল থাকার তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস প্রায় শেষের পথে। দেখতে দেখতে দুই দশক পার হয়ে গেছে, আজ থেকে শুরু হয়েছে এর শেষ দশক। রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, তবে শেষ দশকের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। যারা এই মাসটিকে কাজে লাগাতে পেরেছেন, তারা অনেক কল্যাণ লাভ করেছেন। আর যারা এখনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, তাদের জন্য শেষ দশকটি হলো পুষিয়ে নেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। এই রাতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই এই দশকে ইবাদতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অধিক ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং স্ত্রীদের সঙ্গ ত্যাগ করে মসজিদে ইতিকাফ করতেন। তাঁর এই আদর্শ অনুসরণ করে আমাদেরও উচিত এই দশকে ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। যদিও সকলের পক্ষে ইতিকাফ করা সম্ভব নয়, তবুও আমরা অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় এবং সালাতুত তারাবি ও তাহাজ্জুদ যথাসাধ্য আদায়ের চেষ্টা করতে পারি। এছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে সময় কাটানো উচিত।

হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, রমজানের শেষ দশক শুরু হলেই রাসুল (সা.) কোমর শক্ত করে বাঁধতেন, অর্থাৎ ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন। তিনি নিজে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রমজান মাসের শেষ দশক শুরু হলেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কোমর শক্ত করে বাঁধতেন, এ সময়ের রাতগুলোতে জাগ্রত থাকতেন এবং তার গৃহবাসীদের সজাগ করতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শেষ দশকে আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বোচ্চ ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হতেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও এতে শামিল করতেন।

জামে তিরমিজিতে আরো একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ আদায়ের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.)-এর অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে তাঁর পরিবারের এমন কোনো সদস্যকে ঘুমাতে দিতেন না, যিনি রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করতে সক্ষম। বরং তিনি প্রত্যেককেই জাগ্রত থেকে ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের পথে: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ

রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে মশগুল থাকার তাগিদ

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস প্রায় শেষের পথে। দেখতে দেখতে দুই দশক পার হয়ে গেছে, আজ থেকে শুরু হয়েছে এর শেষ দশক। রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, তবে শেষ দশকের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। যারা এই মাসটিকে কাজে লাগাতে পেরেছেন, তারা অনেক কল্যাণ লাভ করেছেন। আর যারা এখনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, তাদের জন্য শেষ দশকটি হলো পুষিয়ে নেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। এই রাতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই এই দশকে ইবাদতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অধিক ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং স্ত্রীদের সঙ্গ ত্যাগ করে মসজিদে ইতিকাফ করতেন। তাঁর এই আদর্শ অনুসরণ করে আমাদেরও উচিত এই দশকে ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। যদিও সকলের পক্ষে ইতিকাফ করা সম্ভব নয়, তবুও আমরা অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় এবং সালাতুত তারাবি ও তাহাজ্জুদ যথাসাধ্য আদায়ের চেষ্টা করতে পারি। এছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে সময় কাটানো উচিত।

হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, রমজানের শেষ দশক শুরু হলেই রাসুল (সা.) কোমর শক্ত করে বাঁধতেন, অর্থাৎ ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন। তিনি নিজে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রমজান মাসের শেষ দশক শুরু হলেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কোমর শক্ত করে বাঁধতেন, এ সময়ের রাতগুলোতে জাগ্রত থাকতেন এবং তার গৃহবাসীদের সজাগ করতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শেষ দশকে আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বোচ্চ ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হতেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও এতে শামিল করতেন।

জামে তিরমিজিতে আরো একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ আদায়ের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.)-এর অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে তাঁর পরিবারের এমন কোনো সদস্যকে ঘুমাতে দিতেন না, যিনি রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করতে সক্ষম। বরং তিনি প্রত্যেককেই জাগ্রত থেকে ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন।