ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির পরিবারের আট সদস্য নিহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির পরিবারের অন্তত আটজন সদস্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি যুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন।

ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলা বিমান হামলায় মুজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাঁর দুই ছেলের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। মুজতবা খামেনির মোট তিন সন্তান রয়েছে—দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

যুদ্ধকালীন হামলায় তাঁর বাবা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই পদে ছিলেন, তিনিও নিহত হন। এছাড়াও, মুজতবা খামেনির মা মানসুরে খোজাস্তে বাঘেরজাদেহও একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে—বাবা, মা, স্ত্রী এবং এক ছেলে।

তবে কিছু প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুজতবা খামেনির আরও চারজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়—তাঁর এক বোন, এক ভাতিজা, এক ভাতিজি এবং এক দুলাভাইও নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যের সংখ্যা আটজন বলে জানা যাচ্ছে। বিমান হামলায় নিহতদের নাম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আলী খামেনির চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে এবং নিহত নাতি-নাতনিরা তাঁদের পরিবারের সদস্য হতে পারেন।

এদিকে, মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করায় চীন ও রাশিয়া তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত। ৮৮ সদস্যের একদল আলেম পরিষদ ভোটের মাধ্যমে তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করলেও জয়ের সুনির্দিষ্ট ভোটের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার আগেই ইসরাইল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যিনিই এ পদে বসুন না কেন, তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে দেশটি আর কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনির হাতে দেশটির রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে। এই পদটি কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের পথে: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির পরিবারের আট সদস্য নিহত

আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির পরিবারের অন্তত আটজন সদস্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি যুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন।

ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলা বিমান হামলায় মুজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাঁর দুই ছেলের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। মুজতবা খামেনির মোট তিন সন্তান রয়েছে—দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

যুদ্ধকালীন হামলায় তাঁর বাবা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই পদে ছিলেন, তিনিও নিহত হন। এছাড়াও, মুজতবা খামেনির মা মানসুরে খোজাস্তে বাঘেরজাদেহও একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে—বাবা, মা, স্ত্রী এবং এক ছেলে।

তবে কিছু প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুজতবা খামেনির আরও চারজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়—তাঁর এক বোন, এক ভাতিজা, এক ভাতিজি এবং এক দুলাভাইও নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যের সংখ্যা আটজন বলে জানা যাচ্ছে। বিমান হামলায় নিহতদের নাম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আলী খামেনির চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে এবং নিহত নাতি-নাতনিরা তাঁদের পরিবারের সদস্য হতে পারেন।

এদিকে, মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করায় চীন ও রাশিয়া তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত। ৮৮ সদস্যের একদল আলেম পরিষদ ভোটের মাধ্যমে তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করলেও জয়ের সুনির্দিষ্ট ভোটের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার আগেই ইসরাইল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যিনিই এ পদে বসুন না কেন, তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে দেশটি আর কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনির হাতে দেশটির রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে। এই পদটি কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।