ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের বেসরকারি খাতের ফার্নেস অয়েল-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ এক মাস উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানির পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে সামনে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যখন সেচের চাহিদা ও গরমের তীব্রতা বাড়বে। তাই এখনই এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিআইপিপিএ-এর সভাপতি ডেভিড হাসনাত এবং সাবেক সভাপতি ইমরান করিম এসব তথ্য তুলে ধরেন। তারা বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারের কাছে বকেয়া পাওনার পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।

ইমরান করিম জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখা যাবে। সাত দিন আগে পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট এক লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল। বর্তমানে যা আছে, তা দিয়ে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সরকারের কাছে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এই কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ এবং সময়মতো বিল পরিশোধ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ছয় থেকে নয় মাস পর বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, যা জ্বালানি আমদানি ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে তাদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা বকেয়া রয়েছে, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখা কঠিন করে তুলেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান করিম বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় এলএনজির দাম ৪০ ডলারে উঠেছিল। তখন তেল ব্যবহার করে সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল বাংলাদেশ। কয়েকমাস স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল, যা সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। তিনি আরও জানান, যেভাবে এলএনজির দাম বাড়ছে, ফার্নেস অয়েলের দাম সেভাবে বাড়ে না। তাই এলএনজি সবসময় সাশ্রয়ী নাও হতে পারে।

বিআইপিপিএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমাদের কারণে এই খাতে অনেক…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের পথে: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ

বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা

আপডেট সময় : ০২:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দেশের বেসরকারি খাতের ফার্নেস অয়েল-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ এক মাস উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানির পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে সামনে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যখন সেচের চাহিদা ও গরমের তীব্রতা বাড়বে। তাই এখনই এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিআইপিপিএ-এর সভাপতি ডেভিড হাসনাত এবং সাবেক সভাপতি ইমরান করিম এসব তথ্য তুলে ধরেন। তারা বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারের কাছে বকেয়া পাওনার পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।

ইমরান করিম জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখা যাবে। সাত দিন আগে পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট এক লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল। বর্তমানে যা আছে, তা দিয়ে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সরকারের কাছে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এই কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ এবং সময়মতো বিল পরিশোধ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ছয় থেকে নয় মাস পর বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, যা জ্বালানি আমদানি ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে তাদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা বকেয়া রয়েছে, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখা কঠিন করে তুলেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান করিম বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় এলএনজির দাম ৪০ ডলারে উঠেছিল। তখন তেল ব্যবহার করে সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল বাংলাদেশ। কয়েকমাস স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল, যা সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। তিনি আরও জানান, যেভাবে এলএনজির দাম বাড়ছে, ফার্নেস অয়েলের দাম সেভাবে বাড়ে না। তাই এলএনজি সবসময় সাশ্রয়ী নাও হতে পারে।

বিআইপিপিএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমাদের কারণে এই খাতে অনেক…