ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম সালাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার দায়ে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সকল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এর আগে গত মঙ্গলবার একই উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয় নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল উপজেলা বিএনপি। এই ধারাবাহিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো সরাইল উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্রমতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাচনী প্রচারে সরব হন। মাইকিং, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাদের উপস্থিতি দলীয় পর্যায়ে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা তা আমলে নেননি বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতেই উপজেলা বিএনপি এই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম বলেন, “শাহজাদাপুর ইউনিয়ন কমিটির অধিকাংশ সদস্য দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আশানুরূপ ভূমিকা পালন করেননি। বরং অনেকেই দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক করার জন্য সাময়িকভাবে পুরো কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তারা যদি নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গীকার করেন, তবে ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রম পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।”
কমিটি স্থগিতের এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলে বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি এবার নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে।
রিপোর্টারের নাম 

























