প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ্রতুলতায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এখন দেশের অন্যতম প্রধান জ্বালানি। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটি গত এক মাস ধরে ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বাজারে চাহিদামতো মিলছে না সিলিন্ডার, অন্যদিকে আকাশচুম্বী দামের চাপে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দেওয়া হলেও মূলত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত কারসাজিতেই পুরো এলপিজি সেক্টর এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
গত দেড় দশকে দেশে এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা এবং পরিবহন খাতেও এটি এখন অপরিহার্য। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে এই জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে প্রায় ২৫ গুণ। আমদানিনির্ভর হওয়া সত্ত্বেও এতদিন এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় দেখা না দিলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এক মাস ধরে দেশের এলপিজি সেক্টরে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও জেলা পর্যায়ে সিলিন্ডারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় এলপিজি পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। যেখানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দাম রাখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না, যা সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রাকৃতিক গ্যাস বা জ্বালানি তেল সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলপিজি খাতটি পুরোপুরি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে। এই সুযোগে দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগ্রুপ পুরো বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ৪টিসহ মোট ৮টি বড় প্রতিষ্ঠান গত দেড় বছর ধরে রহস্যজনকভাবে এলপিজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
আমদানির এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেই ইরান থেকে এলপিজি বহনকারী একাধিক জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ে। এতে সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা নিষেধাজ্ঞা এই সংকটের একমাত্র কারণ নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট মহলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাজার অস্থিতিশীল করার অসৎ উদ্দেশ্যই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। মূলত আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটিই সাধারণ মানুষকে আজ এই চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























