এগারো দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়ন এবং হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ভোট চাইতে আসবে, তাদের কাছে প্রথমেই হাদি হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা চাইতে হবে।
গত বুধবার কুমিল্লার দেবীদ্বার নিউমার্কেট চত্বরে এনসিপি আয়োজিত নির্বাচনি পদযাত্রার এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা বর্তমানে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা।”
বিগত সরকারের সময়কার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেবীদ্বার উপজেলার ১১ জন বীর সন্তান বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। গত ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষ গুম, খুন ও নানাবিধ জুলুমের শিকার হয়েছে। এই দুঃশাসন থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে এবং একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যে তরুণরা অকাতরে প্রাণ দিয়েছে, তারা কারও দয়া বা করুণার ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। ঐক্যজোট ক্ষমতায় এলে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রার্থীদের যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বারবার বলেছি ব্যাংক লুটেরা ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন না দিতে। কিন্তু তারা সেই ধরনের ব্যক্তিদেরই বেছে নিয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ শাসনের নেতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ওই দলের কর্মীরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর এবং এমনকি নারীদের ওপরও সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তারা গণভোট ও সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও তৃণমূল পর্যায়ে তাদের অনুসারীরা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জোর দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আর কেউ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে না এবং সাধারণ মানুষকে তাদের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে জীবন দিতে হবে না।
রিপোর্টারের নাম 

























