ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত: রাবি শিবিরের বিক্ষোভ, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের ১৭টি হল প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে ফিরে আসে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে এই ঘটনাকে ‘নির্বাচনের প্রথম খুন’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। তারা তারেক রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

বিক্ষোভ শেষে রাবি শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের অফিস সম্পাদক মুজাহিদ ইসলাম বলেন, শেরপুরে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী জামায়াতের একজন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মুজাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৫ই আগস্টের পর তারা দেশে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও, বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করা শুরু করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেন, তবে দেশের সাধারণ জনগণ তাকে বিতাড়িত করবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তার পরিকল্পনা দেশের মানুষ বুঝে গেছে। আজকের হত্যাকাণ্ড ছাড়াও বিএনপির চলমান ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে তারা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীকে লাল কার্ড দেখাবে।

সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, শেরপুর-৩ আসনে সকল প্রার্থী যখন তাদের ইশতেহার ঘোষণা করছিলেন, তখন বিএনপি তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় এবং তাদের হামলায় জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর তারা ভেবেছিলেন বাংলাদেশে খুনের রাজনীতি থাকবে না। পূর্বে রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দলে পাথর দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ফাহিম রেজা আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে একটি সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা হবে বলে তারা আশা করেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনী প্রথম খুন তারেক রহমানের বাহিনীই করেছে। তিনি এই খুনিদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে বয়কট করবে বলে জানান। তিনি গতকাল রাজশাহীতে তারেক রহমানের একটি সমাবেশ বয়কট করার কথাও উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত: রাবি শিবিরের বিক্ষোভ, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের ১৭টি হল প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে ফিরে আসে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে এই ঘটনাকে ‘নির্বাচনের প্রথম খুন’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। তারা তারেক রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

বিক্ষোভ শেষে রাবি শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের অফিস সম্পাদক মুজাহিদ ইসলাম বলেন, শেরপুরে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী জামায়াতের একজন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মুজাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৫ই আগস্টের পর তারা দেশে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও, বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করা শুরু করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেন, তবে দেশের সাধারণ জনগণ তাকে বিতাড়িত করবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তার পরিকল্পনা দেশের মানুষ বুঝে গেছে। আজকের হত্যাকাণ্ড ছাড়াও বিএনপির চলমান ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে তারা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীকে লাল কার্ড দেখাবে।

সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, শেরপুর-৩ আসনে সকল প্রার্থী যখন তাদের ইশতেহার ঘোষণা করছিলেন, তখন বিএনপি তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় এবং তাদের হামলায় জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর তারা ভেবেছিলেন বাংলাদেশে খুনের রাজনীতি থাকবে না। পূর্বে রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দলে পাথর দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ফাহিম রেজা আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে একটি সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা হবে বলে তারা আশা করেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনী প্রথম খুন তারেক রহমানের বাহিনীই করেছে। তিনি এই খুনিদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে বয়কট করবে বলে জানান। তিনি গতকাল রাজশাহীতে তারেক রহমানের একটি সমাবেশ বয়কট করার কথাও উল্লেখ করেন।