শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভকারীরা এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘ছাত্রশিবির দিচ্ছে ডাক, চাঁদাবাজি নিপাত যাক’, ‘নির্বাচন কমিশন, বন্ধ করো প্রহসন’, ‘তারেক জিয়ার অনেক গুণ, নির্বাচনে মানুষ খুন’, ‘বিএনপি মানুষ মারে, নির্বাচন কমিশন কি করে’, ’চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘বিএনপি খুন করে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘হোয়াট ইস ইয়োর প্ল্যান, মার্ডার মার্ডার’।
মিছিলে অংশ নিয়ে শাখা শিবিরের সদস্য ফেরদৌস আল হাসান বিএনপিকে ‘নব্য ফ্যাসীবাদী’ উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “নব্য ফ্যাসীবাদীদের বলতে চাই, তোমরা কি হাসিনাকে ভুলে গেছ? ফ্যাসীবাদী হাসিনা তো ভারতে পালিয়েছে, তোমরা কি লন্ডনের টিকিট কেটেছ? তারেক রহমানকে বলবো, সময় থাকতে আপনি আপনার দলকে নিয়ন্ত্রণ করুন। সুস্থ ধারার পরিশীলিত রাজনীতি করতে পারলে করুন, নয়তো লন্ডনে চলে যান। সময় থাকতে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুন, নয়তো জনগণ আপনাদেরকেও হাসিনার মতো লাল কার্ড দেখাবে।” তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় কীভাবে বিচার আদায় করতে হয়, তা তারা জানেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
চাকসুর জিএস সায়েদ বিন হাবিব তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুরাতন ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর নতুন এক ফ্যাসিবাদী শক্তির আবির্ভাব হয়েছে। তার দাবি, এই শক্তি শুরুতেই ছাত্রসংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে এবং চাঁদাবাজির দখল নিয়ে মারামারি করে দুই শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গত কয়েকদিনে অন্তত ২৫ জায়গায় নারীদের ওপর আঘাত করা হয়েছে, কুপিয়ে জখম করা হয়েছে এবং তাদের পর্দা খুলে ফেলা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে হাসিনার মতো তাদেরও পালানোর জায়গা থাকবে না। সায়েদ বিন হাবিব নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার এবং বিএনপি কর্তৃক জামায়াত নেতা হত্যার দ্রুত বিচার করার দাবি জানান।
শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম জুলাই শহীদদের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “যারা অকাতরে জীবন দিয়ে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার পরও এমন দুর্ভাগা দেশ আমাদের দেখতে হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ নির্মূলের পর তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের কথা বলেছিলেন, যেখানে চাঁদাবাজি, খুন, সন্ত্রাস ও নারী নিপীড়ন থাকবে না। কিন্তু একটি দল সেই স্পিরিট ভুলে পুরাতন বস্তাপচা রাজনৈতিক ধারায় চলতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, তারা মানুষের ম্যান্ডেটের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না এবং জন-ম্যান্ডেটের আস্থা হারিয়ে এই সন্ত্রাসী বাহিনী সারাদেশে মা-বোনদের ওপর হামলা করেছে, নেকাব খুলেছে এবং কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনীতির এমন পুরোনো ধারায় চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে। মাজহারুল ইসলাম তারেক জিয়ার দল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, তাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা এমন নিচুতে নেমেছে যে আওয়ামী বয়ান দিয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে। তিনি বিএনপি কর্তৃক জামায়াত নেতা হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অতিসত্বর বিচার দাবি করেন। একই সাথে, হামলায় প্রার্থীর ইন্ধন থাকলে তার প্রার্থিতা বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























