শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
জানা গেছে, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এলাকা মুখর করে তোলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে মাওলানা রেজাউল করিম মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনার রেশ ধরেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, রাজনীতির নামে ভিন্নমতের মানুষকে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম একটি রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা আবারও সেই পুরনো প্রতিহিংসার রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। দেশের ছাত্রসমাজ এ ধরনের অপরাজনীতি কখনোই মেনে নেবে না।
ছাত্রশক্তির জবি শাখার সদস্য সচিব শাহিন মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনের নামে যারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের রুখতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সুস্থ রাজনীতির ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে সহিংসতা বেছে নিচ্ছেন, তারা অচিরেই জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবেন।
শিবির নেতা সোহাগ আহমেদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারিকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বর্বরোচিত। নির্বাচন কমিশন যদি সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা নেতৃত্বের ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হয়।
জবি শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক শেখ ফেরদৌস প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রাজনীতি করুন, অন্যথায় সাধারণ মানুষ আপনাদের বর্জন করবে।
সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিহত জামায়াত নেতার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 























