ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা: খুনের ‘বড় পরিকল্পনা’ রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ডাকসু নেতারা এই সময় দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

সমাবেশে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ বা বেগম খালেদা জিয়ার সেই বিএনপি এখন আর নেই। বর্তমান বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের প্রত্যাশা করলেও গত কয়েক মাসে বিএনপির বিরুদ্ধে অসংখ্য সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও বলেন, “যাদের নিজেদের কোন্দলে গত কয়েক মাসে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়। বাংলাদেশে খুনের কোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।”

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে ভিপি সাদিক বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন। অন্যথায় সাধারণ মানুষ রাজপথে এর জবাব দেবে।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা ইতিবাচক রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি খুন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” শেরপুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, কর্তব্যরত সেনা সদস্যরাও আহত হয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতার সন্ত্রাস ও দখলদারি কর্মকাণ্ড ধূলিসাৎ করছে। মানুষ এখন আর শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করতে চায়।

সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করি। কিন্তু যদি একজন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দখলদারি ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা যদি কোনো রাজনৈতিক ‘পরিকল্পনার’ অংশ হয়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা এবং সারাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা খুনের রাজনীতি প্রতিহত করতে জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা: খুনের ‘বড় পরিকল্পনা’ রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ডাকসু নেতারা এই সময় দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

সমাবেশে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ বা বেগম খালেদা জিয়ার সেই বিএনপি এখন আর নেই। বর্তমান বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের প্রত্যাশা করলেও গত কয়েক মাসে বিএনপির বিরুদ্ধে অসংখ্য সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও বলেন, “যাদের নিজেদের কোন্দলে গত কয়েক মাসে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়। বাংলাদেশে খুনের কোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।”

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে ভিপি সাদিক বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন। অন্যথায় সাধারণ মানুষ রাজপথে এর জবাব দেবে।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা ইতিবাচক রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি খুন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” শেরপুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, কর্তব্যরত সেনা সদস্যরাও আহত হয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতার সন্ত্রাস ও দখলদারি কর্মকাণ্ড ধূলিসাৎ করছে। মানুষ এখন আর শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করতে চায়।

সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করি। কিন্তু যদি একজন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দখলদারি ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা যদি কোনো রাজনৈতিক ‘পরিকল্পনার’ অংশ হয়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা এবং সারাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা খুনের রাজনীতি প্রতিহত করতে জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না।