ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“নিষেধাজ্ঞা না মেনেই ইলিশ ধরে জমিয়ে রেখেছিল, সেই সাড়ে তিনশ কেজি মাছেই এখন পচন ধরেছে।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের কাছে একটা ট্রলার থেকে সাড়ে তিনশ কেজি পচা ইলিশ ধরা পড়েছে। ট্রলারটি ভোলার মনপুরা থেকে এসেছিল। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে এই অভিযানটি চালায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মাছগুলো ইলিশের প্রজনন মৌসুমে (৪ থেকে ২৫ অক্টোবর) যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল, ঠিক সেই সময়ই ধরা হয়েছিল এবং লুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। আজকে সেই পচা মাছ বাজারে বিক্রি করতে আনায় ওই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চাঁদপুর অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তিনি জানান, “আমরা বেশ কয়েকটি ট্রলারে তল্লাশি চালাই। তার মধ্যে একটা ট্রলারে এই সাড়ে তিনশ কেজি পচা ইলিশ পাওয়া যায়। পরে মাছগুলো জব্দ করে মাটিচাপা দিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়। যেহেতু ট্রলারের মালিক হেলাল খান নিষেধাজ্ঞা না মেনে ইলিশ ধরে জমিয়ে রেখেছিলেন, তাই তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।” অবশ্য, হেলাল খানের হয়ে জরিমানার টাকাটা আরেক মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল পরিশোধ করেন। এছাড়া, বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদেরও ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সাবধান করে দেওয়া হয়েছে।

এই এলাকায় এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর একই জায়গায় আলাদা একটা অভিযান চালিয়েছিল এবং তখনও বিপুল পরিমাণ পচা ইলিশ জব্দ করা হয়। সেই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

এদিনের অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা এবং চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, আসল ঘটনা হলো—মা ইলিশ রক্ষার জন্য যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিছু অসাধু লোক সেই সময়েও চুরি করে মাছ ধরে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় জমিয়ে রাখে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই তারা এখন সেই পচা মাছগুলো বাজারে এনে বিক্রি করার চেষ্টা করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেধা পাচার: বিপন্ন জনপদ ও একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক রক্তক্ষরণ

“নিষেধাজ্ঞা না মেনেই ইলিশ ধরে জমিয়ে রেখেছিল, সেই সাড়ে তিনশ কেজি মাছেই এখন পচন ধরেছে।”

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

চাঁদপুরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের কাছে একটা ট্রলার থেকে সাড়ে তিনশ কেজি পচা ইলিশ ধরা পড়েছে। ট্রলারটি ভোলার মনপুরা থেকে এসেছিল। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে এই অভিযানটি চালায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মাছগুলো ইলিশের প্রজনন মৌসুমে (৪ থেকে ২৫ অক্টোবর) যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল, ঠিক সেই সময়ই ধরা হয়েছিল এবং লুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। আজকে সেই পচা মাছ বাজারে বিক্রি করতে আনায় ওই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চাঁদপুর অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তিনি জানান, “আমরা বেশ কয়েকটি ট্রলারে তল্লাশি চালাই। তার মধ্যে একটা ট্রলারে এই সাড়ে তিনশ কেজি পচা ইলিশ পাওয়া যায়। পরে মাছগুলো জব্দ করে মাটিচাপা দিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়। যেহেতু ট্রলারের মালিক হেলাল খান নিষেধাজ্ঞা না মেনে ইলিশ ধরে জমিয়ে রেখেছিলেন, তাই তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।” অবশ্য, হেলাল খানের হয়ে জরিমানার টাকাটা আরেক মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল পরিশোধ করেন। এছাড়া, বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদেরও ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সাবধান করে দেওয়া হয়েছে।

এই এলাকায় এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর একই জায়গায় আলাদা একটা অভিযান চালিয়েছিল এবং তখনও বিপুল পরিমাণ পচা ইলিশ জব্দ করা হয়। সেই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

এদিনের অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা এবং চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, আসল ঘটনা হলো—মা ইলিশ রক্ষার জন্য যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিছু অসাধু লোক সেই সময়েও চুরি করে মাছ ধরে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় জমিয়ে রাখে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই তারা এখন সেই পচা মাছগুলো বাজারে এনে বিক্রি করার চেষ্টা করছে।