চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে একটি মাঠের মধ্যে গভীর নলকূপ খননের জন্য তৈরি করা গর্তে পড়ে মো. মিসবাহ (৪) নামে এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কদলপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ শিশু মিসবাহ ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বুধবার বিকেলে খেলাধুলা করার সময় শিশু মিসবাহ মাঠের মধ্যে নলকূপ স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা একটি পাইপ আকৃতির সরু গর্তে হঠাৎ করে পড়ে যায়। স্থানীয়রা শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু উদ্ধার কাজ চলাকালীন সময়ে শিশুটি গর্তের আরও গভীরে চলে যায়, যা উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তোলে। পুলিশ এবং স্থানীয় জনসাধারণও উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় কদলপুরের বড়ুয়া পাড়ায় এই নলকূপটি খনন করা হয়েছিল। কিন্তু খননের পর গর্তটি দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। গর্তটির গভীরতা আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ ফুট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এস এম সাজেদুল ইসলাম জানান, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ আমরা সবাই মিলে শিশুটিকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপ খননের জন্য তৈরি করা একটি গর্তে পড়ে সাজিদ (২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 

























