ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সেন্টমার্টিন খুলছে ১ নভেম্বর, তবে দিনে গিয়েই ফিরতে হবে পর্যটকদের

দ্বীপের মানুষের হতাশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভ্রমণের প্রথম মাস (নভেম্বর) কোনো পর্যটক দ্বীপে রাতে থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ, দিনে গিয়েই আবার সেদিনই ফিরে আসতে হবে। এর ফলে, সময়মতো কক্সবাজার ফেরার জন্য পর্যটকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দ্বীপ ছাড়তে হবে, যে কারণে তাঁরা দ্বীপে ঘোরাঘুরির জন্য খুব কম সময়ই পাবেন।

শুধু তাই নয়, গতবারের মতোই জাহাজ ছাড়বে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে। উখিয়ার ইনানী ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি, কারণ এক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ফলে, পর্যটকদের আগের মতোই সাগরে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় কাটাতে হবে।

ভ্রমণের সময় দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২টি নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন উখিয়ার ইনানী থেকেই সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলবে এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আইনি বাধার কারণে তা আর হচ্ছে না। ইনানী থেকে জাহাজ ছাড়লে দ্বীপে পৌঁছাতে অনেক কম সময় লাগতো। এখন কক্সবাজার থেকে ছাড়লে ইনানী পার হয়ে জাহাজে পৌঁছাতেই অন্তত তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে। আসার সময়েও একই অবস্থা হবে। এতে ফিরতি জাহাজ ঘাটে পৌঁছাতে রাত ৯টাও বেজে যেতে পারে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে নীতিগত সম্মতি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা সেই চিঠিতে পাঁচটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতকে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই ইসিএ এলাকার মধ্যেই কক্সবাজার পৌরসভা (রাজস্ব রেকর্ডের সৈকত, বালুচর, বন, জলাভূমি), ইনানী মৌজা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ চালু রাখা বা নতুন করে শুরু করা যাবে না।

এই চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন বলেন, ‘মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের নিয়মেই কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাবে। এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতেই ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। আবার প্রথম মাস রাতে থাকাও যাবে না। ফিরতেও লাগবে আরও ছয় ঘণ্টা। এতে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দেখার জন্য খুব সামান্যই সময় পাবেন।’

রাতে থাকাসহ অন্যান্য বিধিনিষেধগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর ঠিক আজকের দিনটিতেও আমরা সেন্টমার্টিনের পর্যটন শিল্প এবং লাখ লাখ মানুষের জীবিকা বাঁচানোর জন্য ঢাকার রাস্তায় আন্দোলন করছিলাম। জানি না, হয়তো আবারও আমাদের রাজপথে নামতে হতে পারে। আমরা সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।’

এদিকে, মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে পর্যটকদের অনলাইনে টিকিট কাটতে হবে। প্রতিটি টিকিটে একটি ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড না থাকলে সেই টিকিট নকল বলে গণ্য করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিন দ্বীপে চলতে পারবে না এবং প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, যেকোনো ধরনের শব্দ করা এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে ঢোকা, কেওড়া ফল সংগ্রহ বা বেচাকেনা করা, এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজ কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক বা অন্য কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ যেকোনো ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সেন্টমার্টিনে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না। এছাড়া চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, সাবান বা শ্যাম্পুর মিনি প্যাক এবং ৫০০ মিলি ও এক লিটারের প্লাস্টিক বোতলের মতো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “গত এক দশক ধরেই দ্বীপের মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভর করে সংসার চালায়। গত বছর থেকে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করে দেওয়ায় দ্বীপবাসী আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এই মৌসুমে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য সবাই মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন রাতে থাকার সুযোগ না থাকায় আবাসন (হোটেল-রিসোর্ট) মালিকদের মনে শান্তি নেই। যে পরিমাণ পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাতে সব প্রতিষ্ঠান সেবাদানের সুযোগও পাবে না।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেধা পাচার: বিপন্ন জনপদ ও একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক রক্তক্ষরণ

সেন্টমার্টিন খুলছে ১ নভেম্বর, তবে দিনে গিয়েই ফিরতে হবে পর্যটকদের

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

দ্বীপের মানুষের হতাশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভ্রমণের প্রথম মাস (নভেম্বর) কোনো পর্যটক দ্বীপে রাতে থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ, দিনে গিয়েই আবার সেদিনই ফিরে আসতে হবে। এর ফলে, সময়মতো কক্সবাজার ফেরার জন্য পর্যটকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দ্বীপ ছাড়তে হবে, যে কারণে তাঁরা দ্বীপে ঘোরাঘুরির জন্য খুব কম সময়ই পাবেন।

শুধু তাই নয়, গতবারের মতোই জাহাজ ছাড়বে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে। উখিয়ার ইনানী ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি, কারণ এক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ফলে, পর্যটকদের আগের মতোই সাগরে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় কাটাতে হবে।

ভ্রমণের সময় দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২টি নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন উখিয়ার ইনানী থেকেই সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলবে এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আইনি বাধার কারণে তা আর হচ্ছে না। ইনানী থেকে জাহাজ ছাড়লে দ্বীপে পৌঁছাতে অনেক কম সময় লাগতো। এখন কক্সবাজার থেকে ছাড়লে ইনানী পার হয়ে জাহাজে পৌঁছাতেই অন্তত তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে। আসার সময়েও একই অবস্থা হবে। এতে ফিরতি জাহাজ ঘাটে পৌঁছাতে রাত ৯টাও বেজে যেতে পারে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে নীতিগত সম্মতি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা সেই চিঠিতে পাঁচটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতকে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই ইসিএ এলাকার মধ্যেই কক্সবাজার পৌরসভা (রাজস্ব রেকর্ডের সৈকত, বালুচর, বন, জলাভূমি), ইনানী মৌজা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ চালু রাখা বা নতুন করে শুরু করা যাবে না।

এই চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন বলেন, ‘মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের নিয়মেই কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাবে। এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতেই ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। আবার প্রথম মাস রাতে থাকাও যাবে না। ফিরতেও লাগবে আরও ছয় ঘণ্টা। এতে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দেখার জন্য খুব সামান্যই সময় পাবেন।’

রাতে থাকাসহ অন্যান্য বিধিনিষেধগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর ঠিক আজকের দিনটিতেও আমরা সেন্টমার্টিনের পর্যটন শিল্প এবং লাখ লাখ মানুষের জীবিকা বাঁচানোর জন্য ঢাকার রাস্তায় আন্দোলন করছিলাম। জানি না, হয়তো আবারও আমাদের রাজপথে নামতে হতে পারে। আমরা সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।’

এদিকে, মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে পর্যটকদের অনলাইনে টিকিট কাটতে হবে। প্রতিটি টিকিটে একটি ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড না থাকলে সেই টিকিট নকল বলে গণ্য করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিন দ্বীপে চলতে পারবে না এবং প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, যেকোনো ধরনের শব্দ করা এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে ঢোকা, কেওড়া ফল সংগ্রহ বা বেচাকেনা করা, এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজ কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক বা অন্য কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ যেকোনো ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সেন্টমার্টিনে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না। এছাড়া চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, সাবান বা শ্যাম্পুর মিনি প্যাক এবং ৫০০ মিলি ও এক লিটারের প্লাস্টিক বোতলের মতো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “গত এক দশক ধরেই দ্বীপের মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভর করে সংসার চালায়। গত বছর থেকে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করে দেওয়ায় দ্বীপবাসী আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এই মৌসুমে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য সবাই মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন রাতে থাকার সুযোগ না থাকায় আবাসন (হোটেল-রিসোর্ট) মালিকদের মনে শান্তি নেই। যে পরিমাণ পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাতে সব প্রতিষ্ঠান সেবাদানের সুযোগও পাবে না।”