ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

শেরপুরে ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, ৩০ জন আহত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার অনুষ্ঠান মঞ্চে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে অনুষ্ঠান মঞ্চের শত শত চেয়ার এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূর্বঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে এসে বসেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

তবে, অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারির চেয়ারে বসা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তেই সেই কথাকাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। সংঘর্ষের পরেও দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

সংঘর্ষে আহতদের আশপাশের লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উগ্রবাদী ও জঙ্গি জামাতিরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে তারা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের জানান, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদক ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

শেরপুরে ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, ৩০ জন আহত

আপডেট সময় : ০৭:১৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার অনুষ্ঠান মঞ্চে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে অনুষ্ঠান মঞ্চের শত শত চেয়ার এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূর্বঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে এসে বসেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

তবে, অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারির চেয়ারে বসা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তেই সেই কথাকাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। সংঘর্ষের পরেও দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

সংঘর্ষে আহতদের আশপাশের লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উগ্রবাদী ও জঙ্গি জামাতিরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে তারা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের জানান, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।