ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সরগরম নির্বাচনী মাঠ, জামায়াতের মরিয়া প্রচেষ্টা

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলটির অভ্যন্তরে বিভক্তি ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অবস্থান সুসংহত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিএনপি থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পেলেও, মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল প্রতীক) এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া প্রতীক)। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও প্রভাবশালী এই দুই নেতা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তারা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন, যা তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির মধ্যে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মুনজুর রহমান একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে জামায়াত পুঠিয়া ও দুর্গাপুর জুড়ে সংগঠিতভাবে প্রচার অভিযান চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে জামায়াত নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে।

এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার।

ব্যারিস্টার রেজাউল করিম জানিয়েছেন, জনগণ ও নেতাকর্মীদের চাপে তিনি নির্বাচনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “মানুষের চোখের পানি আর আহাজারি আমাকে থামতে দেয়নি।” বহিষ্কারের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি মানুষের জন্যই মাঠে আছি।”

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন, “গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সে সময় অনেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ সেই মানুষগুলোর অনুরোধেই নির্বাচন করছি। দল ছাড়িনি, বিএনপির রাজনীতিই করে যাব।”

তবে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই। দল একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে। আমিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুনজুর রহমান বলেন, “ইসলামের বিজয়ের জন্য দেশের আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ এক হয়েছে। পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ পরিবর্তনের জন্য দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ।”

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, “যিনি সত্যিকার অর্থে পাশে থাকবেন, তাকেই ভোট দেব। প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দেখতে চাই।”

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংকটকালে মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদক ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সরগরম নির্বাচনী মাঠ, জামায়াতের মরিয়া প্রচেষ্টা

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলটির অভ্যন্তরে বিভক্তি ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অবস্থান সুসংহত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিএনপি থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পেলেও, মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল প্রতীক) এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া প্রতীক)। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও প্রভাবশালী এই দুই নেতা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তারা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন, যা তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির মধ্যে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মুনজুর রহমান একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে জামায়াত পুঠিয়া ও দুর্গাপুর জুড়ে সংগঠিতভাবে প্রচার অভিযান চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে জামায়াত নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে।

এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার।

ব্যারিস্টার রেজাউল করিম জানিয়েছেন, জনগণ ও নেতাকর্মীদের চাপে তিনি নির্বাচনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “মানুষের চোখের পানি আর আহাজারি আমাকে থামতে দেয়নি।” বহিষ্কারের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি মানুষের জন্যই মাঠে আছি।”

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন, “গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সে সময় অনেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ সেই মানুষগুলোর অনুরোধেই নির্বাচন করছি। দল ছাড়িনি, বিএনপির রাজনীতিই করে যাব।”

তবে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই। দল একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে। আমিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুনজুর রহমান বলেন, “ইসলামের বিজয়ের জন্য দেশের আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ এক হয়েছে। পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ পরিবর্তনের জন্য দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ।”

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, “যিনি সত্যিকার অর্থে পাশে থাকবেন, তাকেই ভোট দেব। প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দেখতে চাই।”

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংকটকালে মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।