ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতায় পেশাদারত্ব বৃদ্ধি: পিআইবিতে ডুজা সদস্যদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যসহ ক্যাম্পাসে কর্মরত সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি পিআইবি কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনের এই নিবিড় প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ। এছাড়া পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, সিদ্দিক ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুহাজির মাহি এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের প্রধান নিয়ামক। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, জনমতের সঠিক প্রতিফলন না হওয়া বা নির্বাচনের ফলাফল বিতর্কিত হওয়ার ফলে অতীতে দেশে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে।

ফারুক ওয়াসিফ আরও বলেন, বর্তমান সময়টি দেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল। এই ধরনের ঐতিহাসিক অর্জনকে ম্লান করতে নানা ধরনের অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো গভীর বিশ্লেষণ ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের বিশেষ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবেই দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এখানকার সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতাও অনেক বেশি। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থীদের কাছে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে হবে। ভোটাররা যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রার্থীদের আয়ের উৎস ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবেদন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ডুজা সভাপতি মহিউদ্দিন মুহাজির মাহি তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সংবেদনশীল। এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহায়ক হবে।

সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসান জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকালীন সংবাদ সংগ্রহের আইনি কাঠামো, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অপতথ্য প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার নীতিমালা, ভোটকেন্দ্র থেকে সংবাদ সংগ্রহ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতায় পেশাদারত্ব বৃদ্ধি: পিআইবিতে ডুজা সদস্যদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যসহ ক্যাম্পাসে কর্মরত সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি পিআইবি কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনের এই নিবিড় প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ। এছাড়া পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, সিদ্দিক ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুহাজির মাহি এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের প্রধান নিয়ামক। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, জনমতের সঠিক প্রতিফলন না হওয়া বা নির্বাচনের ফলাফল বিতর্কিত হওয়ার ফলে অতীতে দেশে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে।

ফারুক ওয়াসিফ আরও বলেন, বর্তমান সময়টি দেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল। এই ধরনের ঐতিহাসিক অর্জনকে ম্লান করতে নানা ধরনের অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো গভীর বিশ্লেষণ ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের বিশেষ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবেই দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এখানকার সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতাও অনেক বেশি। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থীদের কাছে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে হবে। ভোটাররা যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রার্থীদের আয়ের উৎস ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবেদন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ডুজা সভাপতি মহিউদ্দিন মুহাজির মাহি তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সংবেদনশীল। এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহায়ক হবে।

সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসান জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকালীন সংবাদ সংগ্রহের আইনি কাঠামো, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অপতথ্য প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার নীতিমালা, ভোটকেন্দ্র থেকে সংবাদ সংগ্রহ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।