ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি: নতুন নীতিমালায় স্বস্তি, স্বচ্ছতার আশ্বাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত একটি যুগান্তকারী নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ নামে অভিহিত এই সংশোধিত নীতিমালাটি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং তাদের কর্মস্থলে সহজগম্যতার সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এই নীতিমালাটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।

এই নতুন নীতিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বচ্ছতা। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়াটি এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এর ফলে, বদলির জন্য শিক্ষকদের আর কোনো প্রকার প্রভাবশালীর শরণাপন্ন হতে হবে না, যা এতদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

নীতিমালায় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রাথমিকভাবে নিজ জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যদি নিজ জেলায় কোনো পদ শূন্য না থাকে, তবে তারা নিজ বিভাগের অন্য কোনো জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে, এই নীতিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং মানবিক পরিবর্তনটি এসেছে ৩.৮(গ) ধারায়। এই বিশেষ বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষকরা তাদের স্বামী অথবা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। হাজার হাজার বিচ্ছিন্ন পরিবারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সুখবর, যা পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

আবেদনের শর্তাবলী:

চাকরির বয়স: একজন শিক্ষক প্রথমবার চাকরিতে যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
পরবর্তী বদলি: একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পরবর্তী বদলির জন্য ন্যূনতম দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে।
শূন্যপদ প্রকাশ: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকার বিপরীতেই কেবল বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এই নতুন নীতিমালা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি: নতুন নীতিমালায় স্বস্তি, স্বচ্ছতার আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত একটি যুগান্তকারী নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ নামে অভিহিত এই সংশোধিত নীতিমালাটি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং তাদের কর্মস্থলে সহজগম্যতার সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এই নীতিমালাটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।

এই নতুন নীতিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বচ্ছতা। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়াটি এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এর ফলে, বদলির জন্য শিক্ষকদের আর কোনো প্রকার প্রভাবশালীর শরণাপন্ন হতে হবে না, যা এতদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

নীতিমালায় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রাথমিকভাবে নিজ জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যদি নিজ জেলায় কোনো পদ শূন্য না থাকে, তবে তারা নিজ বিভাগের অন্য কোনো জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে, এই নীতিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং মানবিক পরিবর্তনটি এসেছে ৩.৮(গ) ধারায়। এই বিশেষ বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষকরা তাদের স্বামী অথবা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। হাজার হাজার বিচ্ছিন্ন পরিবারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সুখবর, যা পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

আবেদনের শর্তাবলী:

চাকরির বয়স: একজন শিক্ষক প্রথমবার চাকরিতে যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
পরবর্তী বদলি: একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পরবর্তী বদলির জন্য ন্যূনতম দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে।
শূন্যপদ প্রকাশ: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকার বিপরীতেই কেবল বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এই নতুন নীতিমালা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।