বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে কর্মরত ৯ জন শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমতি বা পূর্বঘোষণা ছাড়াই গোপনে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
দেশত্যাগ করা কর্মকর্তাদের তালিকা: ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে আসা এই কর্মকর্তারা প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁরা হলেন:
- জিএম: প্রতিম বর্মণ, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, এন. সুরায়া প্রকাশ রায়।
- এজিএম: কেশবা পালাকি, পাপ্পু লাল মিনা।
- ডিজিএম: সুরেশ কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা, অরিন্দম সাহা।
- সিএফও: ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম জানান, সকালে ডাইনিংয়ে তাঁদের না পেয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁরা কাউকে কিছু না জানিয়েই ভারতে চলে গেছেন। প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারী তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা ‘নিরাপত্তাহীনতা’র অজুহাত দেখান। দুপুরের দিকে তাঁরা সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রহস্য ও উদ্বেগ: প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে। গত কয়েক দিনে এই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। এমনকি যাওয়ার আগে নিজেদের দায়িত্বও কাউকে বুঝিয়ে দেননি। এমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই গোপনে দেশত্যাগ করার বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ এবং ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়া বিল নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তাদের এই গোপন প্রস্থান দুদেশের জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
রিপোর্টারের নাম 

























