নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই থামছে না। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল মাদক, দুর্নীতি ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে, সেই সভার পরও উপজেলার কাঁকফো বসুপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী রাত ১২টার পর থেকে ৮-১০টি ট্রাক্টর বা বড় ট্রলির মাধ্যমে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। তমালতলা এলাকার এক মাটি ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম তরুর কাছ থেকে প্রতি গাড়ি মাটি ১২০০ টাকা করে কিনেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম তরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি, তবে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান। অন্যদিকে, জিগোরী এলাকার আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার নাম জড়ানো হলেও তিনি এ কাজে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেছেন, ‘এভাবে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমন অপরাধের তথ্য পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত গভীর হলেই ট্রলির শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতই পুকুর বা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এসব কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রায়ই ‘দেখছি’ বলে দায় এড়ানো হয়, ফলে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















