ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ হাসিনার বিবৃতি: উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ হাসিনার বিবৃতি: উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর; ড. ইউনূসের তীব্র সমালোচনা

মেটা বর্ণনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর বিবৃতি দিয়েছেন। দেশ বর্তমানে এক গভীর অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেন। একই সাথে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি দমনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এসইও ট্যাগ: শেখ হাসিনার বিবৃতি ২০২৬, বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আওয়ামী লীগ সংবাদ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার ভাষণ।


নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে পদ্মাপাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বিস্ফোরক বিবৃতি। ভারত থেকে দেওয়া এই দীর্ঘ বার্তায় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ও বিপজ্জনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “গভীরভাবে আহত ও রক্তাক্ত একটি জাতি আজ এক ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে এবং বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।”

শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৈশাচিক আক্রমণে বিধ্বস্ত। তাঁর দাবি, একসময়ের শান্তিপূর্ণ দেশটি এখন ‘বধ্যভূমি ও মৃত্যু উপত্যকায়’ পরিণত হয়েছে, যেখানে সর্বত্র শুধু ধ্বংস আর মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। তিনি সরাসরি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে “রক্তাক্ত ফ্যাসিস্ট” হিসেবে অভিহিত করে তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচিত সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করা হয়েছে এবং সেই দিন থেকেই দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনামলে দেশে মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন ঘটছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার নির্যাতন চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাঁর মতে, দেশের জমি ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার একটি চক্রান্ত চলছে এবং ড. ইউনূস জাতিকে বহুজাতিক সংঘাতের আগুনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মাতৃভূমিকে বাঁচাতে হলে এই পুতুল শাসনকে উৎখাত করতে হবে এবং শহীদদের রক্তে লেখা সংবিধান রক্ষা করতে হবে।” আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি বর্তমান প্রশাসনের অপসারণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা বন্ধ এবং গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি তোলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এই জাতিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে বিশ্ববিবেককে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি বরাবরের মতো ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ হাসিনার বিবৃতি: উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ হাসিনার বিবৃতি: উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর; ড. ইউনূসের তীব্র সমালোচনা

মেটা বর্ণনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর বিবৃতি দিয়েছেন। দেশ বর্তমানে এক গভীর অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেন। একই সাথে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি দমনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এসইও ট্যাগ: শেখ হাসিনার বিবৃতি ২০২৬, বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আওয়ামী লীগ সংবাদ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার ভাষণ।


নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে পদ্মাপাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বিস্ফোরক বিবৃতি। ভারত থেকে দেওয়া এই দীর্ঘ বার্তায় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ও বিপজ্জনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “গভীরভাবে আহত ও রক্তাক্ত একটি জাতি আজ এক ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে এবং বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।”

শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৈশাচিক আক্রমণে বিধ্বস্ত। তাঁর দাবি, একসময়ের শান্তিপূর্ণ দেশটি এখন ‘বধ্যভূমি ও মৃত্যু উপত্যকায়’ পরিণত হয়েছে, যেখানে সর্বত্র শুধু ধ্বংস আর মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। তিনি সরাসরি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে “রক্তাক্ত ফ্যাসিস্ট” হিসেবে অভিহিত করে তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচিত সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করা হয়েছে এবং সেই দিন থেকেই দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনামলে দেশে মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন ঘটছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার নির্যাতন চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাঁর মতে, দেশের জমি ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার একটি চক্রান্ত চলছে এবং ড. ইউনূস জাতিকে বহুজাতিক সংঘাতের আগুনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মাতৃভূমিকে বাঁচাতে হলে এই পুতুল শাসনকে উৎখাত করতে হবে এবং শহীদদের রক্তে লেখা সংবিধান রক্ষা করতে হবে।” আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি বর্তমান প্রশাসনের অপসারণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা বন্ধ এবং গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি তোলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এই জাতিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে বিশ্ববিবেককে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি বরাবরের মতো ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।