ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ হ্রাস: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের কবলে জনজীবন

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ কমিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট এক গভীরতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদানি পাওয়ার তাদের নির্ধারিত সরবরাহ থেকে প্রায় ৪২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যান্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট “মেরামতের” কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত আদানির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

আদানির এই ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গোড্ডা প্ল্যান্টটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম ট্রান্সন্যাশনাল পাওয়ার প্রজেক্ট হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে এই প্ল্যান্ট থেকেই বাংলাদেশ তার বিদ্যুৎ চাহিদার একটি সিংহভাগ মিটিয়ে থাকে। তবে কয়েক বছর ধরেই পেমেন্ট বকেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে বকেয়া বিলের অজুহাতে আদানি সরবরাহ অর্ধেক করে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে বাংলাদেশ কিছু বকেয়া পরিশোধ করেছে, কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বকেয়ার পরিমাণ ৮০০-৯০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় আদানি পুনরায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।

সরবরাহ কমার প্রভাবে রাজধানী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ প্রায় সব জেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, মেরামতের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বকেয়া বিল পরিশোধের চাপ এবং চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষির একটি অংশ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই আদানির সঙ্গে করা এই অসম চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং প্রয়োজনে চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছে।

বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে সময়মতো জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং ফার্নেস অয়েল চালিত প্ল্যান্টগুলো সচল রাখার চেষ্টা করছে, তবে এর উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা আরও ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, তখন আদানির মতো বড় উৎস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকলে দেশ এক ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমাধান এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ হ্রাস: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের কবলে জনজীবন

আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ কমিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট এক গভীরতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদানি পাওয়ার তাদের নির্ধারিত সরবরাহ থেকে প্রায় ৪২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যান্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট “মেরামতের” কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত আদানির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

আদানির এই ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গোড্ডা প্ল্যান্টটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম ট্রান্সন্যাশনাল পাওয়ার প্রজেক্ট হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে এই প্ল্যান্ট থেকেই বাংলাদেশ তার বিদ্যুৎ চাহিদার একটি সিংহভাগ মিটিয়ে থাকে। তবে কয়েক বছর ধরেই পেমেন্ট বকেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে বকেয়া বিলের অজুহাতে আদানি সরবরাহ অর্ধেক করে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে বাংলাদেশ কিছু বকেয়া পরিশোধ করেছে, কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বকেয়ার পরিমাণ ৮০০-৯০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় আদানি পুনরায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।

সরবরাহ কমার প্রভাবে রাজধানী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ প্রায় সব জেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, মেরামতের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বকেয়া বিল পরিশোধের চাপ এবং চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষির একটি অংশ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই আদানির সঙ্গে করা এই অসম চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং প্রয়োজনে চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছে।

বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে সময়মতো জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং ফার্নেস অয়েল চালিত প্ল্যান্টগুলো সচল রাখার চেষ্টা করছে, তবে এর উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা আরও ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, তখন আদানির মতো বড় উৎস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকলে দেশ এক ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমাধান এখন সময়ের দাবি।