একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে ভারত বরাবরই সমর্থন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ বর্তমানে দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক এবং আঞ্চলিক সংহতির প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে সক্ষম।
হাইকমিশনার তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের যৌথ আত্মত্যাগের অবিস্মরণীয় ইতিহাস স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম যেমন আমাদের সংস্কৃতিকে সংযুক্ত করেছে, তেমনি আধুনিক যুগে আন্তঃসীমান্ত ডিজেল পাইপলাইন এবং নেপাল ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সঞ্চালন লাইন আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করেছে। প্রণয় ভার্মার মতে, দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বর্তমানে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দ্বারা চালিত একটি আধুনিক মডেলে রূপ নিয়েছে, যা দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃশ্যমান সুবিধা বয়ে আনছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। হাইকমিশনার তার বক্তব্যে আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও গভীর ‘জ্বালানি করিডোর’ এবং ‘যৌভ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশ পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























