ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি: চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রবর্তন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আজ ২৫শে জানুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এই সংশোধনীর ফলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন এবং দেশের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের সমুদয় ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।

১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি তৎকালীন সংসদ মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিল পাস করে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে আজীবন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা একক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।

এই দিনে মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করে বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়। দেশের সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)’ নামে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান এই নতুন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চতুর্থ সংশোধনীর পর দেশের সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনায় চারটি সংবাদপত্র প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে সংবাদপত্রের বহুমাত্রিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বৈধ ১৪টি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। এমনকি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও বিলুপ্ত করে বাকশালের অধীনে নিয়ে আসা হয়, যার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন মাসের বেতন না দিয়েই কারখানা বন্ধ, টঙ্গীতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি: চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রবর্তন

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আজ ২৫শে জানুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এই সংশোধনীর ফলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন এবং দেশের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের সমুদয় ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।

১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি তৎকালীন সংসদ মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিল পাস করে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে আজীবন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা একক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।

এই দিনে মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করে বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়। দেশের সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)’ নামে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান এই নতুন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চতুর্থ সংশোধনীর পর দেশের সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনায় চারটি সংবাদপত্র প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে সংবাদপত্রের বহুমাত্রিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বৈধ ১৪টি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। এমনকি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও বিলুপ্ত করে বাকশালের অধীনে নিয়ে আসা হয়, যার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।