ঢাকা ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কারো খবরদারি বা লাল চোখ সহ্য করবে না বাংলাদেশ: গাইবান্ধায় জামায়াত আমির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এ দেশের ওপর অন্য কোনো রাষ্ট্রের খবরদারি বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কারো লাল চোখকে ভয় করি না। আমরা যেমন কারো ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাই না, ঠিক তেমনি আমাদের দেশের ওপর অন্য কারো হস্তক্ষেপও মেনে নেব না।”

শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ নদীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনগণের সমর্থনে সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নদীর নব্যতা ও জীবন ফিরে আসলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরবে।

দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সমূলে নির্মূল করা হবে। সাধারণ মানুষকে কেবল ভাতার ওপর নির্ভরশীল না করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে কেবল সাহায্য নয়, কাজ দিতে চাই। দেশের প্রতিটি মানুষকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসেবার গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং মা-বোনদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শত জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দেশ ছেড়ে যাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তারা জনগণের পাশে থেকেছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে চান।

জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য, এই জেলার পাঁচটি আসনেই জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের জনগণের কাছে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আসন্ন নির্বাচনে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না: ইরানের ওপর পুনরায় হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত ট্রাম্পের

কারো খবরদারি বা লাল চোখ সহ্য করবে না বাংলাদেশ: গাইবান্ধায় জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১১:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এ দেশের ওপর অন্য কোনো রাষ্ট্রের খবরদারি বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কারো লাল চোখকে ভয় করি না। আমরা যেমন কারো ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাই না, ঠিক তেমনি আমাদের দেশের ওপর অন্য কারো হস্তক্ষেপও মেনে নেব না।”

শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ নদীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনগণের সমর্থনে সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নদীর নব্যতা ও জীবন ফিরে আসলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরবে।

দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সমূলে নির্মূল করা হবে। সাধারণ মানুষকে কেবল ভাতার ওপর নির্ভরশীল না করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে কেবল সাহায্য নয়, কাজ দিতে চাই। দেশের প্রতিটি মানুষকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসেবার গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং মা-বোনদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শত জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দেশ ছেড়ে যাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তারা জনগণের পাশে থেকেছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে চান।

জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য, এই জেলার পাঁচটি আসনেই জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের জনগণের কাছে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আসন্ন নির্বাচনে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।