রাজধানীর বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এক মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৩ জন নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এই মামলার অপর এক আসামি, মো. তাইবুর সাইফ, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন— মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, মো. সামির চৌধুরী লিয়ন, মো. ইমন আলী খান, মো. ইয়াছিন আরাফাত আবির, মো. সিফাত রহমান, ইয়ামিন আরাফাত নিহাদ, মো. নাজমুল সরকার, মো. আবির হোসেন, মো. তৌকির তারেক আয়াজ এবং মো. হাবিবুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন যে, আসামিরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাদের কোনো পদ-পদবি নেই। তারা সেদিন টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা দেখছিলেন বলে দাবি করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ মে বনানী নেভী হেডকোয়ার্টার্সের সামনে কিছু আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত ব্যানারে একটি বেআইনি মিছিল করে। এ সময় আশিক তপাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে গত ১৩ জুন সকালে বনানী নেভী হেডকোয়ার্টার্সের সামনে একটি মাইক্রোবাস থেকে এই ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য এবং তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও উৎখাতের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন। তাদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অর্থ জোগানদাতাদের চিহ্নিত করার জন্য আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















