আগামীকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী চা-বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আসছেন। সেখানে তিনি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ১২০ জন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের সরকারি অনুদান ও সহায়তা গ্রহণ করবেন। সব মিলিয়ে মোট ২৭৫ জন উপকারভোগী এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা পাবেন। এই অনুদানের মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা, চা-শ্রমিকদের টেকসই আবাসন সুবিধা এবং দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি জনসভায় মৌলভীবাজারে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে শ্রীমঙ্গলে আসছেন, যা এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীকে দিতে তারা প্রস্তুত এবং সফর সফল করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও তাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, বসার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সমন্বয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন প্রকৃত সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আরও ১২০ জন বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা পাবেন। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















