ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

ভোলা-২ আসনে জোটের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরলেন জামায়াত প্রার্থী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ১০ দলীয় ইসলামী জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত জোটগত ঐক্য বজায় রাখতে এবং বৃহত্তর স্বার্থে এই আসনটি অন্য শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি মাঠ থেকে জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর খবরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনি প্রচারের নির্ধারিত প্রথম দিন থেকেই দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। প্রার্থী মাঠে না থাকায় এবং দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। অনেকের ধারণা ছিল, কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত না পাওয়ায় নির্বাচনি লড়াইয়ে নামতে পারছেন না ফজলুল করিম।

স্থানীয় সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, ১০ দলীয় ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে ভোলা-২ আসনে এলডিপির প্রার্থী মোখফার উদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। জোটের এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াত প্রার্থীকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এখন থেকে সাংগঠনিক রুটিন কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে জোটের বর্তমান প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা সহযোগিতা চাওয়া হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও আসন পরিচালক মাওলানা মাকসুদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং উম্মাহর ঐক্যের কথা বিবেচনা করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো দুর্বলতা বা ভয়ের প্রতিফলন নয়, বরং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শিক লড়াইয়ের একটি অংশ।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও আদর্শ ও ন্যায়ের পথে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সাময়িকভাবে পিছিয়ে এলেও তারা বিশ্বাস করেন, বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। বর্তমানে এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ফলে নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা ৪ বাংলাদেশি বর্ণনা দিলেন সেই মিসাইল হামলার

ভোলা-২ আসনে জোটের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরলেন জামায়াত প্রার্থী

আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ১০ দলীয় ইসলামী জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত জোটগত ঐক্য বজায় রাখতে এবং বৃহত্তর স্বার্থে এই আসনটি অন্য শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি মাঠ থেকে জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর খবরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনি প্রচারের নির্ধারিত প্রথম দিন থেকেই দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। প্রার্থী মাঠে না থাকায় এবং দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। অনেকের ধারণা ছিল, কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত না পাওয়ায় নির্বাচনি লড়াইয়ে নামতে পারছেন না ফজলুল করিম।

স্থানীয় সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, ১০ দলীয় ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে ভোলা-২ আসনে এলডিপির প্রার্থী মোখফার উদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। জোটের এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াত প্রার্থীকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এখন থেকে সাংগঠনিক রুটিন কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে জোটের বর্তমান প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা সহযোগিতা চাওয়া হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও আসন পরিচালক মাওলানা মাকসুদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং উম্মাহর ঐক্যের কথা বিবেচনা করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো দুর্বলতা বা ভয়ের প্রতিফলন নয়, বরং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শিক লড়াইয়ের একটি অংশ।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও আদর্শ ও ন্যায়ের পথে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সাময়িকভাবে পিছিয়ে এলেও তারা বিশ্বাস করেন, বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। বর্তমানে এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ফলে নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।