ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

সরাইল-আশুগঞ্জের অবহেলা দূর করার অঙ্গীকার রুমিন ফারহানার: ‘হাঁস’ প্রতীকে চাইলেন ভোট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সারা দেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকা এখনো চরমভাবে অবহেলিত। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে এই এলাকা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

জনসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে উন্নয়নের চিত্র দেখেছি। কিন্তু আমার নিজের এলাকা সরাইল-আশুগঞ্জ কেন আজও পিছিয়ে থাকবে? আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও সরকারকে এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। মনে রাখবেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের অধিকার।”

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নের জন্য আমি কেবল সরকারি বরাদ্দের আশায় বসে থাকব না। আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

এলাকার জরাজীর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজকের এই জনসভায় আসতে আমাকে দীর্ঘ সময় গাড়িতে, এরপর নৌকায় এবং সবশেষে বালুর রাস্তায় অটোরিকশায় চড়তে হয়েছে। যাতায়াতের এই দুর্ভোগে আমি নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তাহলে এই এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কীভাবে চলাচল করে? এই বিচ্ছিন্নতা ও অবহেলার দেয়াল ভেঙে আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ পৌঁছে দিতেই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।”

এ সময় রুমিন ফারহানা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর পর্যন্ত একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এই সেতু এবং পুরো এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণ করা আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। আমি কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী।”

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাঁস’ প্রতীক হলো শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে একবার তাকে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে কাজের মাধ্যমেই তিনি এর প্রতিদান দেবেন।

পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খান এবং যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে মুখরিত এই জনসভা শেষে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার প্রতীকের পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা ৪ বাংলাদেশি বর্ণনা দিলেন সেই মিসাইল হামলার

সরাইল-আশুগঞ্জের অবহেলা দূর করার অঙ্গীকার রুমিন ফারহানার: ‘হাঁস’ প্রতীকে চাইলেন ভোট

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সারা দেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকা এখনো চরমভাবে অবহেলিত। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে এই এলাকা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

জনসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে উন্নয়নের চিত্র দেখেছি। কিন্তু আমার নিজের এলাকা সরাইল-আশুগঞ্জ কেন আজও পিছিয়ে থাকবে? আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও সরকারকে এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। মনে রাখবেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের অধিকার।”

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নের জন্য আমি কেবল সরকারি বরাদ্দের আশায় বসে থাকব না। আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

এলাকার জরাজীর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজকের এই জনসভায় আসতে আমাকে দীর্ঘ সময় গাড়িতে, এরপর নৌকায় এবং সবশেষে বালুর রাস্তায় অটোরিকশায় চড়তে হয়েছে। যাতায়াতের এই দুর্ভোগে আমি নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তাহলে এই এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কীভাবে চলাচল করে? এই বিচ্ছিন্নতা ও অবহেলার দেয়াল ভেঙে আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ পৌঁছে দিতেই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।”

এ সময় রুমিন ফারহানা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর পর্যন্ত একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এই সেতু এবং পুরো এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণ করা আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। আমি কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী।”

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাঁস’ প্রতীক হলো শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে একবার তাকে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে কাজের মাধ্যমেই তিনি এর প্রতিদান দেবেন।

পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খান এবং যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে মুখরিত এই জনসভা শেষে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার প্রতীকের পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।