ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ধুঁকছে শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে ৩ লাখ মানুষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেবল জনবলের অভাবে তিন লক্ষাধিক মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি ও বহির্বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার একটি বড় অংশ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় নিয়োজিত পদের বড় একটি অংশই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকের ২১টি পদ থাকলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে আছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে আবার দুইজন প্রেষণে অন্য জায়গায় কর্মরত। ফলে ২১ জনের কাজ সামলাতে হচ্ছে মাত্র চারজন চিকিৎসককে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অ্যানেস্থেশিয়া, সার্জারি, গাইনি ও মেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ১৬৩টি পদের বিপরীতে ৮৮টি পদই বর্তমানে শূন্য। মাত্র ৭১ জন কর্মী নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও অপারেশন থিয়েটারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাবে রোগীরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য নারী রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চড়া মূল্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা তাদের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে সেবা পাওয়ার আশায় এসে তাদের নিরাশ হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের অভাবে তারা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোটি সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মফিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে প্রতিদিন কয়েকশ রোগীর ভিড় সামলানো মাত্র তিন-চারজন চিকিৎসকের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। জনবল সংকটের এই বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করছি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা ৪ বাংলাদেশি বর্ণনা দিলেন সেই মিসাইল হামলার

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ধুঁকছে শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে ৩ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ১০:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেবল জনবলের অভাবে তিন লক্ষাধিক মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি ও বহির্বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার একটি বড় অংশ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় নিয়োজিত পদের বড় একটি অংশই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকের ২১টি পদ থাকলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে আছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে আবার দুইজন প্রেষণে অন্য জায়গায় কর্মরত। ফলে ২১ জনের কাজ সামলাতে হচ্ছে মাত্র চারজন চিকিৎসককে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অ্যানেস্থেশিয়া, সার্জারি, গাইনি ও মেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ১৬৩টি পদের বিপরীতে ৮৮টি পদই বর্তমানে শূন্য। মাত্র ৭১ জন কর্মী নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও অপারেশন থিয়েটারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাবে রোগীরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য নারী রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চড়া মূল্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা তাদের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে সেবা পাওয়ার আশায় এসে তাদের নিরাশ হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের অভাবে তারা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোটি সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মফিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে প্রতিদিন কয়েকশ রোগীর ভিড় সামলানো মাত্র তিন-চারজন চিকিৎসকের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। জনবল সংকটের এই বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করছি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।