আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন অনলাইন ও অফলাইনের এক দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রচারণার সমান্তরালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে চলছে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ভোট এখন আর কেবল জনসভার ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই; ডিজিটাল অ্যালগরিদমই ঠিক করে দিচ্ছে ভোটারদের দাবার চাল। বিশেষ করে দেশের ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং তরুণ প্রজন্মের বিশাল অংশকে লক্ষ্য করে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির মতো দলগুলো তাদের নিজস্ব ‘থিম সং’ ও কনটেন্টের মাধ্যমে প্রচারণায় জোয়ার তুলেছে।
জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে তৈরি নির্বাচনী গান ইতিমধ্যে ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা অন্য দলগুলোকেও সঙ্গীত ও ভিডিও নির্মাণে উৎসাহিত করেছে। বিএনপি তাদের প্রচারণায় ‘দেশ ও জনতা’কে প্রাধান্য দিয়ে গান প্রকাশের পাশাপাশি ‘MatchMyPolicy.com’ নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নীতিগত প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের ফসল এনসিপি ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে তরুণদের আবেগ ও রাষ্ট্রের সংস্কারের স্বপ্নকে পুঁজি করে এগোচ্ছে। জরিপগুলোতে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, জামায়াত ও এনসিপির বুদ্ধিবৃত্তিক অনলাইন ক্যাম্পেইন এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ শীর্ষক গণভোট নিয়েও ডিজিটাল যুদ্ধ চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই সংস্কার প্যাকেজের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে, যেখানে মূলধারার গণমাধ্যমের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই জোয়ারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপতথ্য ও ভুয়া খবরের ঝুঁকি। গবেষণায় দেখা গেছে, সত্যের চেয়ে মিথ্যা খবর অনলাইনে ছয় গুণ দ্রুত ছড়ায়, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং অ্যালগরিদমের লড়াই ব্যালট পেপারে কার পক্ষে কতটুকু জনসমর্থন আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























