ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিয়ে কাড়াকাড়ি: প্রার্থীরা ছুটছেন নেতার দুয়ারে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হতেই বরিশালের নির্বাচনী মাঠে এক অদ্ভুত ও কৌশলী চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনেই এখন আওয়ামী লীগের নীরব ভোটারদের মন জয়ের প্রতিযোগিতা চলছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তথ্যমতে, এই জেলাগুলোতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট আওয়ামী লীগের পকেটে রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এখন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি না করার দাবি তুলছেন।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করা না হয়। তিনি কৌশলে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নেই, তাদের গ্রেপ্তার করা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পরিপন্থী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটারদের সহানুভূতি পেতেই তাঁর এই অবস্থান। অন্যদিকে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টির কারাবন্দী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া সরাসরি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি মানবিকতার দোহাই দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যা এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপনের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার দাবি করছেন। তবে বিএনপি এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলছে, বরিশালে ধানের শীষের জনসমর্থন অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সমর্থকরা যে প্রার্থীর পক্ষে নীরব রায় দেবেন, তাঁর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এই ‘অদৃশ্য’ ভোট কবজায় নিতে প্রার্থীরা এখন যেমন মানবিক দরদ দেখাচ্ছেন, তেমনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে যাতায়াতও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

বরিশালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিয়ে কাড়াকাড়ি: প্রার্থীরা ছুটছেন নেতার দুয়ারে

আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হতেই বরিশালের নির্বাচনী মাঠে এক অদ্ভুত ও কৌশলী চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনেই এখন আওয়ামী লীগের নীরব ভোটারদের মন জয়ের প্রতিযোগিতা চলছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তথ্যমতে, এই জেলাগুলোতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট আওয়ামী লীগের পকেটে রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এখন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি না করার দাবি তুলছেন।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করা না হয়। তিনি কৌশলে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নেই, তাদের গ্রেপ্তার করা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পরিপন্থী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটারদের সহানুভূতি পেতেই তাঁর এই অবস্থান। অন্যদিকে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টির কারাবন্দী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া সরাসরি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি মানবিকতার দোহাই দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যা এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপনের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার দাবি করছেন। তবে বিএনপি এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলছে, বরিশালে ধানের শীষের জনসমর্থন অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সমর্থকরা যে প্রার্থীর পক্ষে নীরব রায় দেবেন, তাঁর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এই ‘অদৃশ্য’ ভোট কবজায় নিতে প্রার্থীরা এখন যেমন মানবিক দরদ দেখাচ্ছেন, তেমনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে যাতায়াতও বাড়িয়ে দিয়েছেন।