চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী ময়দান এখন বিদ্রোহ আর কৌশলের লড়াইয়ে উত্তপ্ত। সব আসনে প্রার্থী দিয়ে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার দাবি করলেও দুই আসনে ধানের শীষের তিন ‘বিদ্রোহী’ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম, মিজানুল হক চৌধুরী ও লেয়াকত আলী। এতে ভোট ভাগাভাগির শঙ্কায় দলীয় প্রার্থীরা বেশ অস্বস্তিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।
নির্বাচনী জোটের মারপ্যাঁচে জামায়াতে ইসলামীও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। ১৩টি আসনে প্রার্থী দিলেও ১০ দলীয় জোটের শরিকদের তিনটি আসন ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবে জোট থেকে বেরিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) প্রায় প্রতিটি আসনে হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের টান পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর সিটগুলোতে হাতপাখার শক্তিশালী অবস্থান জামায়াতের জন্য বাড়তি চাপের কারণ। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা নিয়ে এনসিপির সাথে তৈরি হয়েছে প্রকাশ্য কোন্দল।
তফসিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে চট্টগ্রামে এখন ১১১ জন প্রার্থীর ব্যাপক প্রচারণা চলছে। তবে সাধারণ ভোটারদের মতে, বিএনপি নির্ভার থাকার চেষ্টা করলেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের জয়ের পথে বড় বাধা হতে পারেন। বিপরীতে জামায়াতকে লড়তে হচ্ছে শরিকদের মানভঞ্জন আর ইসলামী আন্দোলনের প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলে। শেষ পর্যন্ত চাটগাঁর এই রাজকীয় লড়াইয়ে ধানের শীষ না কি দাঁড়িপাল্লা-শাপলা কলি জোট শেষ হাসি হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় বন্দরনগরী।
রিপোর্টারের নাম 
























