১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অঙ্গীকার করেছেন যে, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে উত্তরবঙ্গকেই উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, তিস্তা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমেই গোটা উত্তরবঙ্গকে নতুন প্রাণ দেওয়া হবে। তিনি ঘোষণা দেন যে, দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হবে, যা এই অঞ্চলের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি বিপ্লব ঘটাবে।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার হওয়া সত্ত্বেও গত ৫৪ বছরে এখানকার মানুষ সবসময় অবহেলিত থেকেছে। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীগুলো একসময় আশীর্বাদ থাকলেও সঠিক সংস্কারের অভাবে এবং বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের কারণে বর্তমানে এগুলো মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে এই জনপদের মানুষ ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নদীগুলো তাদের হারানো যৌবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গের জীবনযাত্রাও বদলে যাবে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনসাধারণের সংশয় দূর করতে জামায়াত আমির বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাঁর দল কোনো প্রতিশোধ বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত না হয়ে প্রমান করেছে যে তারা যা বলে তা পালন করে। তিনি কোনো ‘বেকার ভাতা’র মতো জনপ্রিয় সস্তা প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ভাতা দিলে মানুষ অলস হয়ে যায়, তাই তাঁরা বেকারদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে চান। সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ভারতের সঙ্গে ন্যায্যতার সম্পর্কের দাবি তুলে বলেন, বর্ষায় পানি ছাড়ার অন্তত তিন দিন আগে বাংলাদেশকে জানাতে হবে যেন তিস্তাপাড়ের মানুষ ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারে। প্রতিবেশী কোনো দেশের খবরদারি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রিপোর্টারের নাম 
























