আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সরকারের উচ্চপর্যায় ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর বিসিবি স্পষ্ট করেছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। তবে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার নয়, বরং শ্রীলঙ্কার মতো কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সরকার, বিসিবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়। আইসিসি কর্তৃক প্রদত্ত ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের প্রেক্ষিতে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি জানান, সংকটের সূত্রপাত হয় কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। মোস্তাফিজের ইনজুরি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকলেও কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিসিবি সরকারের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আভাস পায়। এর পরপরই গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতীতে ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন দেশ বিশেষ সুবিধা পেলেও বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবিকে আইসিসি গুরুত্ব দিচ্ছে না। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও একটি দেশের আপত্তির মুখে হাইব্রিড মডেলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের নজির রয়েছে। সেই উদাহরণ টেনে বাংলাদেশও শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা খারিজ করে দিয়েছে।
আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভার ভোটাভুটি নিয়ে বিসিবি সভাপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন একপাক্ষিক আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উন্মাদনা রয়েছে, তা উপেক্ষা করা আইসিসির জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ভুল হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৮ সালে অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বড় আসর আয়োজনের পরিকল্পনার মাঝে বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও ক্রিকেটপ্রেমী দেশের অনুপস্থিতি আসরের জৌলুস ও বাণিজ্যিক সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
বিসিবি সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ক্রিকেটারদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা বা চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে শেষ পর্যন্ত আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। বাংলাদেশের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার—বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে। এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
রিপোর্টারের নাম 






















