ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

হাসিনাসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানার তিন পৃথক হত্যা মামলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনটি হত্যা মামলাতেই ‘তথ্যগত ভুল ছিল’।

নিহত তিন ব্যক্তি হলেন ট্রাকচালক মো. জাহাঙ্গীর, ওয়াসার পানির লাইনের মিস্ত্রি জাকির হোসেন এবং রমজান মিয়া জীবন, যিনি পেশায় জুতা তৈরির কারখানার একজন কর্মী।

মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, চব্বিশের জুলাইয়ে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হলেও অন্য তিন ব্যক্তি আরো তিনটি মামলা করেন।

পরিবারের বাইরে ওই তিন ব্যক্তির করা মামলায় দেখানো হয়েছে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর স্থান ভাটারা; মামলাও হয়েছে ভাটারা থানায়। অথচ পরিবারের করা মামলা বলছে ভিন্ন কথা।

জাহাঙ্গীরের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি চব্বিশের ২১ জুলাই মারা গেছেন আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটব অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. বাছির শেখ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থানায় মামলা করেন।

জাকিরের মৃত্যুর পর তার মা রোকেয়া ওরফে মিছিলি বেগম মামলা করেন কদমতলী থানায়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই শনিরআখড়া থেকে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড় শাহী মসজিদের সামনে দিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জাকির।

আর সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের মাথায় গুলি লাগে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে মারা যান জীবন।

এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি পল্টন থানা-পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

তিনটি হত্যা মামলায় সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম প্রতিবেদন জমার জন্য পরবর্তী দিন ২ মার্চ ঠিক করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করলেন না মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

হাসিনাসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের

আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানার তিন পৃথক হত্যা মামলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনটি হত্যা মামলাতেই ‘তথ্যগত ভুল ছিল’।

নিহত তিন ব্যক্তি হলেন ট্রাকচালক মো. জাহাঙ্গীর, ওয়াসার পানির লাইনের মিস্ত্রি জাকির হোসেন এবং রমজান মিয়া জীবন, যিনি পেশায় জুতা তৈরির কারখানার একজন কর্মী।

মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, চব্বিশের জুলাইয়ে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হলেও অন্য তিন ব্যক্তি আরো তিনটি মামলা করেন।

পরিবারের বাইরে ওই তিন ব্যক্তির করা মামলায় দেখানো হয়েছে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর স্থান ভাটারা; মামলাও হয়েছে ভাটারা থানায়। অথচ পরিবারের করা মামলা বলছে ভিন্ন কথা।

জাহাঙ্গীরের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি চব্বিশের ২১ জুলাই মারা গেছেন আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটব অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. বাছির শেখ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থানায় মামলা করেন।

জাকিরের মৃত্যুর পর তার মা রোকেয়া ওরফে মিছিলি বেগম মামলা করেন কদমতলী থানায়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই শনিরআখড়া থেকে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড় শাহী মসজিদের সামনে দিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জাকির।

আর সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের মাথায় গুলি লাগে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে মারা যান জীবন।

এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি পল্টন থানা-পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

তিনটি হত্যা মামলায় সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম প্রতিবেদন জমার জন্য পরবর্তী দিন ২ মার্চ ঠিক করেন।