মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে কাতারএনার্জি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এলএনজি কার্গো নিয়ে নতুন করে কাড়াকাড়ি শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা উড ম্যাকেঞ্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো দি ওদোয়ার্দো জানান, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে প্রাপ্য কার্গো সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আবারও তীব্র হয়ে উঠবে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের গ্যাসের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ (টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি) হাবে ফ্রন্ট-মান্থ চুক্তির দাম মেগাওয়াট ঘণ্টা প্রতি ১৪ দশমিক ৫৬ ইউরো বেড়ে ৪৬ দশমিক ৫২ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম ২৫ শতাংশ বাড়লেও কাতারএনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর তা প্রায় ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। আইএনজির পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি কাতারের এই সরবরাহ বিভ্রাট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে টিটিএফ হাবে গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
ইউরোপের পাশাপাশি ব্রিটিশ ও এশিয়ার বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। ব্রিটিশ বাজারে এপ্রিল মাসের চুক্তিতে গ্যাসের দাম থার্ম প্রতি ৪০ দশমিক ৮৩ পেন্স বেড়ে ১১৯ দশমিক ৪০ পেন্সে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, এশিয়ার মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচক সোমবার সকালে প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) দাম ১৫ দশমিক ০৬৮ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে শিল্পোৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
রিপোর্টারের নাম 



















