বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই আদেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন। শুনানিতে জুনায়েদ আহমেদ পলকের পক্ষে অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ এবং পলাতক সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম অংশ নেন। আসামিপক্ষ তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে অভিযোগ গঠনের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে।
গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সরাসরি নির্দেশনায় জুনায়েদ আহমেদ পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করেন। এর পরবর্তী সময়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা নৃশংস হামলা চালায়।
অভিযোগনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলন দমনে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের প্ররোচনা দিয়ে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছেন। এসব হামলায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারান। এছাড়া মামলার তৃতীয় অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সংঘটিত আরও ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তীতে ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। একই দিনে গ্রেফতার অবস্থায় জুনায়েদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
রিপোর্টারের নাম 

























